বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন
রাজশাহী ব্যুরো প্রতিনিধি ঃ
রাজশাহী সোনালী ব্যাংক লক্ষিপুর শাখার বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত জিএম মোঃ শওকত জামান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এর সময় ঢাকায় হেড অফিসের পিডি শাখায় দীর্ঘ ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন শাখায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদউন্নতিসহ নিয়োগ বাণিজ্যেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকায় চাকরি করা অবস্থায় নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্য অর্থ হাতিয়ে নিয়ে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় ২৫ বিঘা জমির উপরে সাথী নামের পার্ক তৈরি করেন। ৫ আগস্ট এর পরে তাকে ঢাকা হতে রাজশাহীতে বদলি হয়ে স্বাধীনতা ব্যাংকার পরিষদ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের পদ ধারি কর্মকর্তা কর্মচারীকে সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা হতে রাজশাহী অভিমুখে বদলি করে নিয়ে আসেন এবং আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার জন্য স্বাধীনতা ব্যাংকার পরিষদের পদধারী কর্মকর্তা কর্মচারীকে সংশ্লিষ্ট শাখা গুলোতে বদলি কলে নিয়ে আসেন
অনুসন্ধানে জানা গেছে সরকার বদলেছে, বদলায়নি কি সোনালী ব্যাংকের ভেতরের রাজনৈতিক বলয়? রাজশাহী অঞ্চলে একের পর এক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাংকার সংগঠনের পদধারীদের পদায়ন এবং নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা মো. শওকত জামান। অভিযোগের তির তাঁর দিকেই বদলি-পদায়নের আড়ালে কি গড়ে উঠছে বিশেষ একটি বলয়? নাকি সবই নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া? একাধিক বদলির ঘটনা, সংশ্লিষ্টদের সাংগঠনিক পরিচয় ও সম্পদের উৎস নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পিডি শাখায় প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন মো. শওকত জামান। ওই সময়ে বিভিন্ন শাখায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় প্রায় ২৫ বিঘা জমির ওপর সাথী নামে একটি পার্ক গড়ে তোলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জাতীয় শ্রমিক লীগ, স্বাধীনতা ব্যাংকার পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার শাখা থেকে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখায় পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন। মোঃ মোজাহার আলী এসএসজি-২ প্রিন্সিপাল অফিস নাটোর হতে বদলি করে নিয়ে আসেন রাজশাহী ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। তিনি যুগ্ন সাধারন সম্পাদক জাতীয় শ্রমিক লীগ রাজশাহী মহানগর এবং সাধারণ সম্পাদক বি-২০২ সোনালী ব্যাংক রাজশাহী। মোঃ বদিউজ্জামান এসএসজি-২ সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জাতীয় শ্রমিক লীগ রাজশাহী মহানগর এবং সভাপতি বি ২০২ সোনালী ব্যাংক রাজশাহী মৌগাছি বাজার শাখা রাজশাহী হতে জিএম অফিস রাজশাহীতে নিয়ে আসেন। মোঃ গোলাম মাহমুদ সিনিয়র অফিসার সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী উক্ত ব্যক্তিকে নিউ মার্কেট শাখা চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে চারঘাট শাখা, রাজশাহীতে নিয়ে আসেন। মোঃ আবিদ হাসান সিনিয়র অফিসার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বাধীনতা ব্যাংকার পরিষদ সোনালী ব্যাংক রাজশাহী প্রিন্সিপাল অফিস নাটোর হতে পুঠিয়া শাখার রাজশাহীতে নিয়ে আসেন। মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এসপিও সহ-সভাপতি বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংক রাজশাহী প্রিন্সিপাল অফিস নাটোর হতে গোদাগাড়ী শাখা রাজশাহীতে নিয়ে আসেন। মোঃ জিল্লুর রহমান প্রিন্সিপাল অফিসার সদস্য বন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংক রাজশাহী মান্দা শাখা নওগাঁ হতে গোদাগাড়ী শাখা রাজশাহীতে নিয়ে আসেন। মোঃ আনিসুর রহমান সিনিয়র অফিসার প্রিন্সিপাল অফিস সদস্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংক নাটোর উক্ত ব্যক্তিকে নাটোর শাখা হতে বাঘা শাখা রাজশাহীতে নিয়ে আসেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাংগঠনিক পরিচয় ও বদলির সময়কাল পাশাপাশি পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বদলি আদেশ, কর্মস্থল পরিবর্তনের যৌক্তিকতা এবং ব্যাংকের জনবল ব্যবস্থাপনার নথি পরীক্ষা করা জরুরি। অভিযোগে মো. মামুন অর রশিদের নামও এসেছে। তিনি সিনিয়র অফিসার এবং অভিযোগ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সোনালী ব্যাংক রাজশাহীর প্রচার সম্পাদক। অভিযোগকারীদের দাবি, ৫ আগস্টের পরও তিনি শওকত জামানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের রাজশাহী লক্ষ্মীপুর শাখার জিএম মো. শওকত জামান তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।