সোমবার, ১৫ Jun ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন

যেসব শর্তে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতা অনুযায়ী আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সই হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যম ওয়ানা নিউজ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রস্তাবিত এই খসড়া স্মারকলিপির ১৪টি দফা প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে উঠে আসা খসড়া স্মারকলিপির প্রধান ১৪টি দফা হলো-

* লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সব ধরনের শত্রুতা ও সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।

* তেহরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি।

* আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থাকা সামুদ্রিক অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

* ইরানের চারপাশের এলাকা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রুতি।

* ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থার অধীনে ৩০ দিনের মধ্যে ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে।

* ইরানের তেল বিক্রি, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য উপজাত পণ্যের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে হবে। এছাড়াও, এই খাত থেকে অর্জিত সব আর্থিক রাজস্ব ব্যবহারের পূর্ণ স্বাধীনতা ইরানকে দিতে হবে।

* যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোকে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কমপক্ষে ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের একটি পুনর্গঠন প্যাকেজ পেশ করতে হবে।

* পরমাণু সমস্যা সমাধান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞাগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গভর্নিং বোর্ডের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবগুলো সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের উদ্দেশ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের আলোচনার মেয়াদ নির্ধারণ।

* ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনটিপি) মেনে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে।

* আলোচনার সময়কালে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থাকবে।

* ৬০ দিনের আলোচনার সময়কালে অবরুদ্ধ থাকা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে, যার অর্ধেক পরিমাণ আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ইরানকে দিতে হবে।

* চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি তদারকি করার জন্য একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বা মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করা।

* জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে এই চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া।

* ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদের অর্ধেক অবমুক্ত, তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না। চূড়ান্ত চুক্তিটি কেবল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও সমৃদ্ধকৃত সামগ্রী, নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি এবং ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর (যেমন-হিজবুল্লাহ, হামাস) প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডা থেকে স্পষ্টভাবে বাদ থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com