বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করে বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একলাফে ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অনড় অবস্থান এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত এই নৌ অবরোধ কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। তার মতে, সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে নৌ অবরোধ বেশি কার্যকর। তিনি দাবি করেন, এতে ইরানের অর্থনীতি চাপে রয়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি “হাঁসফাঁস” অবস্থায় পৌঁছেছে। প্রয়োজনে অবরোধ আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে দেরি হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ভোক্তাদের ওপর প্রভাব কমাতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। দেশটির এক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ চলতে থাকলে নজিরবিহীন প্রতিক্রিয়া” দেখানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।