সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর॥
ফরিদপুর শহরের বুক চিরে বয়ে চলা এক সময়ের প্রমত্তা কুমার নদ এখন কেবলই স্মৃতির কঙ্কাল। ঐতিহ্যবাহী এই নদটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় আর প্রভাবশালী মহলের দখলের উৎসবে বিলীন হওয়ার পথে। শহরের যাবতীয় বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশনের শেষ গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নদ, যার ফলে এটি এখন একটি সরু ও দুর্গন্ধময় খালে পরিণত হয়েছে।
বিফলে গেছে বিশাল বাজেট
নদটিকে বাঁচাতে এবং এর নাব্য ফিরিয়ে আনতে ২০১৮ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৫০ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেয়। এর আওতায় পুনঃখননসহ নদীর তীরে ৬১টি পাকা ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কথা ছিল এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ কোটি ঘনমিটার পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা হবে এবং প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা হবে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, লুটপাট আর খামখেয়ালিপনার কারণে এই বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের কোনো সুফলই পায়নি ফরিদপুরবাসী।
শহরের বর্জ্য যখন নদের মরণ
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ ও তিতুমীর বাজারের সকল বর্জ্য সরাসরি মিশছে নদে। ড্রেন দিয়ে আসছে শহরের স্যুয়ারেজ লাইনের মলমূত্র এবং বেসরকারি হাসপাতালের বিষাক্ত ক্লিনিক্যাল বর্জ্য। পচা আবর্জনায় নদের পানি এখন কুচকুচে কালো। নদের বুক যেন এখন পৌরসভার অঘোষিত ডাম্পিং স্টেশন।
পার দখলের মহোৎসব
অম্বিকাপুর বাজার থেকে বাখুন্ডা পর্যন্ত নদের দুই তীর এখন প্রভাবশালী মহলের দখলে। তারা সরকারি জমি দখল করে অসংখ্য পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এক সময়ের চওড়া কুমার নদ এসব অবৈধ দখলের চাপে এখন মৃতপ্রায়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই স্বীকার করেছেন যে, নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোনের অভাবে শহরের সব ময়লা ড্রেনের মাধ্যমে নদে গিয়ে পড়ছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন,
“শহরের আবর্জনা ও ময়লা পানি যাতে কুমার নদে না যায়, সে ব্যাপারে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছি। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।”
ঐতিহ্যবাহী এই নদটিকে বাঁচাতে এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধে এখনই কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও কার্যকর খনন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন ফরিদপুরবাসী।