শুক্রবার, ৩১ Jul ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
বাংলাদেশের রাজনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর প্রথম নিউইয়র্ক সফর। সফরকালে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন তিনি। আন্তর্জাতিক এই সর্বোচ্চ মঞ্চে তাঁর বক্তব্য বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক রূপরেখা স্পষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য একটি অনন্য ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এই অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। অধিবেশন পরিচালনায় বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক নেতৃত্ব বৈশ্বিক ফোরামে দেশের ভাবমূর্তি বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সফরটি সংক্ষিপ্ত হলেও কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী হবে। সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩৫ জনের বেশি হবে না এবং চার থেকে পাঁচ দিনের সংক্ষিপ্ত অবস্থান শেষে আগামী ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে একাদিক গুরুত্বপূর্ণ ‘সাইডলাইন’ বৈঠক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন।

এবারের জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলা’। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও এই প্রতিপাদ্যকে বর্তমান বিশ্বের বহুপক্ষীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বিশ্বমঞ্চে ছয়টি প্রধান অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:

শান্তি ও নিরাপত্তা: প্রতিরোধমূলক কূটনীতি, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs): এসডিজি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দূর করে গতি ত্বরান্বিত করা এবং বৈশ্বিক উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতি কমানো।

জলবায়ু ও পরিবেশ: বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষা।

মানবাধিকার ও প্রযুক্তি Governance: সার্বজনীন মানবাধিকার রক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (AI) নব উদীয়মান প্রযুক্তির সুশৃঙ্খল শাসন ও ‘Global Digital Compact’ বাস্তবায়ন।

জাতিসংঘ সংস্কার: বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলা।

জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক, যা চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রেখে নিজ নিজ দেশের অবস্থান ও বৈশ্বিক ভাবনা তুলে ধরবেন। চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই আলোচনায় স্থান পাবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও প্রতিনিধিত্বশীল বহুপক্ষীয় এই ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com