রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি,নবাবগঞ্জঃ ঢাকার নবাবগঞ্জের নতুন বান্দুরায় চারশত বছরের ঐতিহ্যবাহি ভাঙ্গা মসজিদের সম্পত্তি ও আয়-ব্যয় নিয়ে তথাকথিত অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে মসজিদ কমিটি। শনিবার বিকেলে কমিটি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম । তিনি বলেন, মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তি নেই। নতুন বান্দুরা মৌজার সিএস ২৩৯ নং খতিয়ানের ১৪৬ ও ১৪৭ নং দাগে মোট ৪৪ শতাংশ জমি মসজিদের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরএস রেকর্ডেও ১৮৯ ও ১৯০ নম্বর দাগে একই পরিমাণ জমি মসজিদ নামে লিপিবদ্ধ হয়। পরে জমিটি মসজিদের নামে নামজারি করা হয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
সম্প্রতি কিছু তথাকথিত অনলাইন পোর্টালে ও ফেসবুক পেইজে শফিকুল ইসলাম (কালু ) ও তাঁর পক্ষের লোকজন মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। কালুদের পূর্বপুরুষ দুখাই দাইকে মসজিদের খাদেম হিসেবে রাখা হয়েছিল। তার দুই ছেলে মসজিদের জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এসএ রেকর্ডে নিজের নাম লিপিবদ্ধ করে। কিন্ত পরবর্তীতে আরএস রেকর্ড পুনরায় মসজিদের নামে রেকর্ড হয়। তাদের দাবি প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে গত বছর নবাবগঞ্জ থানায় বৈঠক হয় এবং উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে কালু পক্ষকে আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়।
এরপর তারা বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা দাবি করে আসছে। যা মসজিদের সম্পত্তির বিষয়ে কোনো ত্রুটি নেই। মুঘল আমলে ইছামতি নদীর পারে মাটির নিচ থেকে গুম্বুজ জেগে উঠলে বাকি অংশ নির্মাণ করা হয়। যে কারণে এটাকে ভাঙ্গা মসজিদ বলে। প্রতি শুক্রবার এখানে শত শত মানুষ নামাজ পড়ে ও তাদের মানত দেয়। সেই টাকার বিষয়েও এ পক্ষটি মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে মসজিদের সুনাম ও কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা বলেন, কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সিএস-আরএস রেকর্ড, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের নথি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ জানান তাঁরা। এসময় সময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির কমিটির কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সমাজের মাদবর, এলাকাবাসী সর্বস্তরের জনগণ।