সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন

ইটভাটার মাটির চাহিদা মেটাতে নির্বিচারে পাহাড় কাটার অভিযোগ

বশির আহমেদ বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:: বান্দরবানের লামা উপজেলায় ইটভাটার মাটির চাহিদা মেটাতে নির্বিচারে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। বর্ষা মৌসুমেও এক্সকাভেটর (বেকু) দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, লামা উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৪০টি বা তারও বেশি ইটভাটা সক্রিয় রয়েছে। এসব ইটভাটার মাটির চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘মোক্তার-নাজু’ নামে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাহাড় কাটার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কাজে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করারও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় পাহাড়ের ঢাল কেটে খাড়া করে ফেলা হয়েছে। পাহাড়ের নিচে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব মাটি ইটভাটায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। বর্ষাকালে পাহাড় কাটার কারণে অতিবৃষ্টিতে যেকোনো সময় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাহাড়ের প্রাকৃতিক ঢাল কেটে ফেলার ফলে মাটি আলগা হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও তাদের দাবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বেশ কিছু ইটভাটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লোকালয় ও বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে। এসব ভাটার ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে কাশি, চোখ জ্বালা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, ইটভাটার ধোঁয়া ও বিভিন্ন রাসায়নিক নির্গমনের কারণে মাটির উর্বরতা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়ে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল হাসান সজীব বলেন, আমি বান্দরবানে যোগদানের পর গত তিন মাসে অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার দায়ে ২৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছি। এ সময়ে পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান চলমান রয়েছে।

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ও জরিমানার পরও পাহাড় কাটা বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কীভাবে পাহাড় কাটার মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com