সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা অগ্রগতি না হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরও জোরালো করেছে। খবর রয়টার্স’র।

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৫৭ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৭০ ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আশা ভেঙে পড়ে। প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে ইরান ও লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তাৎক্ষণিক শান্তি চুক্তির আশা ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় স্বর্ণের বাজার চাপের মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে হতে পারে। আর উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ এবং তেল সরবরাহে এর প্রভাব বর্তমানে বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার অন্যতম বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস সুদের হার কমানোর পূর্বাভাসও পিছিয়ে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন ধারণা করছে, মার্কিন ফেড ডিসেম্বর ২০২৬ ও মার্চ ২০২৭-এ সুদের হার কমাতে পারে। এর আগে তারা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরেই হার কমানোর পূর্বাভাস দিয়েছিল।

বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া এ প্রতিবেদন ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনের স্বর্ণ উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় কমেছে। নিরাপত্তা পরিদর্শনের কারণে কয়েকটি গলন কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মনে করেন, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ ডলারের মধ্যেই ওঠানামা করতে পারে, কারণ এখনো কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়নি।

স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮০ দশমিক ১৩ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ হাজার ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮১ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com