শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন

আগামী প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে: খালিদ মাহমুদ

মোঃ শামসুল আলম বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা॥

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি আজ বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বোচাগঞ্জ মুক্ত দিবসে মুক্তিযোদ্ধ জনতার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃুত্বে এ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহন করেন। অপর দিকে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা বঙ্গবন্ধু যাতে সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে না পারে এ লক্ষ নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। সেই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করার পর বাংলাদেশকে ব্যার্থ রাষ্ট্র বানাতে যা যা করা দরকার সবই করেছে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা।

এমপি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে। অন্যথায় স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা ক্ষমতায় এলে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ভূলুন্ঠিত করে বলবে জামায়াত এদেশ স্বাধীন করেছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফকরুল হাসান এর সভাপতিত্বে এমপি আরো বলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ১৫টি দলিল রয়েছে কিন্তু সেখানে মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক খন্ড খন্ড ইতিহাস গুলো লিপিবদ্ধ করা হয়নি। আঞ্চলিক খন্ড খন্ড ইতিহাস গুলো লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার আহবান জানােিয় এমপি বলেন, জীবিত শেখ মুজিবুর রহমানের চেয়ে শহীদ শেখ মুজিবুর রহমান অনেক বেশী শক্তিশালী তার আদর্শকে ধারণ করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার যথাক্রমে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাফরুল্লাহ, মোঃ মহিদুল ইসলাম, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোঃ শামসুল আলম ও মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আফজাল হোসেন লাবু।

এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান ফরহাদ হাসান চৌধুরী ইগলু, সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ আব্দুস সবুর, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার আলী সহ বোচাগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালের ৬ডিসেম্বর বোচাগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে শত্রু মুক্ত করেছিল বোচাগঞ্জের মাটি। সম্মুখ যুদ্ধে ধনতলা গ্রামের আব্দুর বারেক ও এনামুল হক, কাকদুয়ার গ্রামের চিনিরাম দেবশর্মা, বিহাগাঁও গ্রামের কাশেম আলী, রনগাঁও ইউনিয়নের ধনঞ্জয়পুর গ্রামের গুলিয়া বাংরু, বনকোট চুনিয়াপাড়া গ্রামের বের্য্যমোহন রায় সহ মোট ১৩ জন মানুষ শহীদ হন।

প্রতিবারের ন্যায় এবছরও উপজেলা মুক্তযোদ্ধা কমান্ড আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর স্মৃতিসৌধে পুষ্প স্থাবক অর্পন, সকাল ৯টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সকাল সাড়ে ৯টায় র‌্যালী শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা জনতার সমাবেশ করেছে। এছাড়াও সন্ধা ৬টায় সেতাবগঞ্জ বড়মাঠে শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় সার্কাস শোর আয়োজন করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com