বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ কাজের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে রাজউক-এর এক ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণ কাজ বন্ধ বা স্থাপনা ভেঙে ফেলার ভয় দেখিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা জানান, কোনো ধরনের নকশা অনুমোদন ও বিধিমালা অনুসরণ না করেই রাজধানীর কদমতলী থানার জোন-৭ এর ১ অন্তর্গত নিবন্ধিত হোল্ডিং নং-২৩/২, মুরাদপুর মাদ্রাসা রোডের পায়লা বেগম নামে এক ব্যক্তি অবৈধ ভাবে এক কাঠা জমির উপর আট তলা ভবন নির্মাণ করেন। এবং একই এলাকার ভবনের মালিক রায়হান, হোল্ডিং নং-৪০৮, অবৈধ ভাবে রাজউকের কোনো অনুমোদন অনুসরণ না করেই দোতলা ভবনের নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে চালানো হচ্ছে, যা আশপাশের পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নিচতলা সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে কাঁচাবাজার হিসেবে ব্যবহার করায় পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পথচারী ও যান চলাচলে মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মাণাধীন ভবনটিতে নির্ধারিত দূরত্ব (সেটব্যাক) মানা হয়নি এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেই। ফলে পাশের ভবনগুলোর বাসিন্দারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে নির্মাণ সামগ্রী সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসী জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর ইন্সপেক্টর মোঃ সিয়াব অভিযোগ তদন্তের জন্য মুরাদপুর মাদ্রাসা রোড এলাকায় আসেন। সেখানে এক কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন আটতলা ভবনের মালিকের স্ত্রী পায়লা বেগমকে ভবন ভেঙে ফেলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে অর্থ গ্রহণের পর ভবনটি ভাঙা হবে না বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়। একই সূত্রে আরও জানা যায়, মুরাদপুর মাদ্রাসা রোডের ১/৪০৮ নম্বর এলাকায় দ্বিতীয় তলা ভবন নির্মনের মালিক রায়হানের কাছ থেকেও অনুরূপ ভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইন্সপেক্টর মোঃ সিয়াব উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে এলাকা জুড়ে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন নির্মাণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ নিয়ে তিনি অর্থ আদায় করে আসছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তার সন্তানের জন্ম উপলক্ষে রাজউকের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পরিচিত মহলকে বড় পরিসরে আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজন ঘিরেও তার আয়ের উৎস নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, “এভাবে অল্প সময়ে এত অর্থবিত্ত অর্জন স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।” তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর ইন্সপেক্টর মোঃ সিয়াব অভিযোগে উল্লিখিত অর্থ গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর অথরাইজড অফিসার ইলিয়াস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলেন, অনুমোদনহীন নির্মাণ শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের কর্মকান্ড রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি জরুরি।