রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা॥
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ নেতৃত্বে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান পূর্ণাঙ্গ চেয়ারপারসন হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে, তার একটি সুস্পষ্ট আইনি ও গঠনতান্ত্রিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো।
গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা
বিএনপির গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৭গ-এর দফা ৩-এ চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হওয়া সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে:
“যে কোনো কারণে চেয়ারম্যাপনের পদ শূন্য হলে সিনিয়ম ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারপারসনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।”
আইনি বিশ্লেষণ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
গঠনতন্ত্রের এই ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জনাব তারেক রহমানের চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়টি তিনটি সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত:
পদ শূন্যতা: গত ৩০শে ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের ফলে দলটির সর্বোচ্চ এই পদটি শূন্য হয়।
স্বয়ংক্রিয় কার্যকারিতা (By Operation of Law): গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার মুহূর্ত থেকেই সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের ওপর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ন্যস্ত হওয়া একটি বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া। এখানে কোনো নতুন ঘোষণা বা সভার চেয়ে গঠনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাই মুখ্য।
স্থায়িত্ব ও মেয়াদ: বিধি অনুযায়ী, পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কোনো চেয়ারপারসন দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জনাব তারেক রহমান পূর্ণাঙ্গ চেয়ারপারসনের সকল ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।
উপসংহার
বিএনপির গঠনতান্ত্রিক কাঠামো অনুযায়ী, জনাব তারেক রহমান বর্তমানে দলের কেবল উত্তরাধিকারী নন, বরং তিনি বৈধভাবে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারপারসনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দলটির সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকল। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতা-কর্মীরা এই নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।