শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্কঃ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করে সরকার গঠনের পথে। অস্থিরতায় বিপর্যস্ত দেশের রাজনৈতিক গতিপথে এই ফলাফল একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি ভোট গণনার প্রবণতা ভূমিধস জয়ের দিকে এগোনোর পরই বিজয় ঘোষণা করে। দুই দশক পর তাদের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ফলাফল আসতে থাকায় দেখা যায় দলটি দুই অঙ্কের আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা বিএনপির পুনরুত্থানের ব্যাপকতা স্পষ্ট করে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়া টুডে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভোরের গণনায় বিএনপি জোট ২১৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। অথচ ৩০০ আসনের সংসদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৫১ আসন। সেই সীমা পেরিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেছে। কয়েকটি আসনে গণনা চললেও সামগ্রিক প্রবণতায় চূড়ান্ত ফলাফলে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। ভোর প্রায় ৪টার দিকে জামায়াতে ইসলামী ৫৬টি আসনে জয় পেয়েছিল।
জুলাই চার্টারে জনসমর্থন
বাংলাদেশের গণভোটের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলেও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেয়া সংস্কারপত্র ‘জুলাই চার্টার’-এর পক্ষে জোরালো জনসমর্থনের ইঙ্গিত মিলেছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণনা হওয়া ভোটের প্রায় ৭২.৯ শতাংশ চার্টার গ্রহণের পক্ষে এবং ২৭.১ শতাংশ বিপক্ষে। তবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেনি।
নির্বাচনের দিনে সহিংসতা, আহত অর্ধশতাধিক
নির্বাচনকে প্রথমে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ বলা হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভোট সংক্রান্ত সংঘর্ষে ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, ১৪টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ৭২ জন আহত হয়েছেন। তাদের অনেকেই ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা আশপাশে ছিলেন। পুলিশ অন্তত ৯ জনকে আটক করেছে। সবচেয়ে গুরুতর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে নোয়াখালীর হাতিয়ায়। সেখানে বিএনপি ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৩১ জন আহত হন। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে টানা নয় ঘণ্টা চলে। ভোটাররা দুটি আলাদা ব্যালট পেপার ব্যবহার করেন। একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, অন্যটি গণভোটের জন্য। সারা দেশের ৪২,৬৫৯টি কেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণ হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত করা হয়।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬০.৬৯ শতাংশ। ডাকযোগে ভোটদানের হার ছিল ৮০.১১ শতাংশ এবং বৈধ ভোটের হার ৭০.২৫ শতাংশ। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের পর এটিই প্রথম শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন তারা প্রত্যক্ষ করেছেন।
ফল মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত
ভোট গণনার মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার দল কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার রাজনীতি করবে না, যা ফলাফল মেনে নেয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করব।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল এবং বড় শহরগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়। বেশির ভাগ কেন্দ্রে, এমনকি ভোটকক্ষের আশপাশেও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়, যদিও কিছু কেন্দ্রে কক্ষের ভেতরে ক্যামেরা ছিল না। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারি ভোটারদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় দশ লক্ষ সদস্য মোতায়েন ছিল।
এই নির্বাচনটি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর প্রথম জাতীয় ভোট এবং তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ ছাড়া অনুষ্ঠিত নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।