শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন
লাইফস্টাইল ডেস্ক:: প্রতিদিনের খাদ্যাভাসই আমাদের শরীরের গঠন ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। আমরা যদি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করি, তবে দেহ সেই উপাদান থেকেই গড়ে তোলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হরমোনের ভারসাম্য ও মানসিক স্থিতি।
অন্যদিকে, আমরা যদি প্রতিনিয়ত তেল-চর্বি, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খাই, তবে তার প্রভাব শরীরে নীরবে জমতে থাকে। এ থেকে শরীরে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়, যেমন হাড় ক্ষয়, হৃদরোগ, হরমোনজনিত সমস্যা বা প্রজনন অক্ষমতার মতো শারীরিক সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর নিজে থেকে কোনো উপাদান তৈরি করতে পারে না; শরীরকে আমরা যা দিই, সেটিই সে গ্রহণ করে, রূপান্তরিত করে শক্তি ও কোষে। তাই প্রতিদিনের খাবারের পছন্দই আসলে আমাদের জীবনের মান নির্ধারণ করে। দেহের পূর্ণাঙ্গ বৃদ্ধি, সুস্থতা এমনকি মানসিক প্রশান্তিও খাদ্যাভ্যাসের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।
একটি সঠিক ডায়েটের মূল উপাদান হলো ফলমূল ও শাকসবজি। এই উপাদানগুলো আমাদের দেহের বৃদ্ধি, শক্তি এবং সম্পূর্ণতার জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। উদাহরণ হিসেবে গাজরের কথা ধরা যাক, কেবল ১০০ গ্রাম গাজরে থাকে ৮৯% পানি, ০.৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২.৭ গ্রাম ফাইবার এবং ০.১ গ্রাম ফ্যাট। গাজরের মতোই সব সবজি বা ফলে আছে প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এসব পুষ্টি উপাদান পরিমিত পরিমাণে থাকা অনিবার্য।
যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি (এফএসএ) ২০০৪-২০০৫ সালে ‘হাই ইন ফ্যাট, সুগার অর সল্ট (এইচএফএসএস)’ নামে একটি ধারণা প্রকাশ করে। এই ধারণার মূল কথা হলো, যেসব খাবারে ফ্যাট, চিনি এবং লবণ বেশি থাকে, তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পুষ্টিবিদদের মতে, কোনো একটি খাদ্য উপাদান সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া বা অতিরিক্ত গ্রহণ করা উভয়ই ক্ষতিকর। খাদ্যের প্রধান তিনটি উপাদান—কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট—এর মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই বিবেচনায় শাকসবজি ও ফলমূলকে পুষ্টি, শক্তি এবং ‘গুড ফ্যাট’-এর পাওয়ারহাউস বলা যেতে পারে। তবে, পুষ্টিগুণে এগিয়ে থাকলেও এই অত্যাবশ্যক খাবারগুলো স্বাদ ও টেক্সচারের প্রতিযোগিতায় অনেক সময় পিছিয়ে যায়। এই স্বাদ ও টেক্সচারের সমস্যাটি শিশুদের ভেতর প্রবল।
পুষ্টিগুণ বা প্রয়োজনীয়তা জানা সত্ত্বেও ফলমূল ও শাকসবজি প্লেটে দেখলে যেন মুখটা খানিকটা বেঁকেই যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে তো শাকসবজি খাওয়ানো যেন প্রতিদিনের এক যুদ্ধ। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক যে, দেশে প্রায় ৪৬% শিশু শাকসবজি খেতে অনিচ্ছুক। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) ‘শিশু পুষ্টি প্রতিবেদন ২০২৫’-এ এই তথ্যটি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তা খাওয়ার জন্য কিন্তু কারও একটুও অনীহা নেই! বাচ্চারা যেন প্রথমেই খুঁজে ‘ভিজ্যুয়াল অ্যাপিলিং’ দৃষ্টিনন্দন খাবার। এই অভ্যাসের কারণেই যে স্বাস্থ্যের করুণ ক্ষতি হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
ফলমূল ও শাকসবজি না খাওয়ার ফলে এখন শিশুরা অল্প বয়স থেকেই দুর্বল দৃষ্টিশক্তি, পেশির দুর্বলতা এবং হাড়ের অসুস্থজনিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের এক জরিপ অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী উভয়ের প্রজনন প্রক্রিয়ায় খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ, বর্তমানে নারীদের মধ্যে গর্ভধারণের অক্ষমতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। নবজাতকদের মধ্যেও অপুষ্টির প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যার মূল কারণ প্রসবকারী মায়ের অনুপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস।
তাহলে এই ফলমূল ও শাকসবজিকে মজার করে তোলার কি কোনো উপায় নেই? অনেকে হয়তো বলবেন, ‘না, নেই।’ কিন্তু এই ধারণাটিকে ভুল প্রমাণ করেছে অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেডের ‘কারকুমা’ ব্র্যান্ডের একটি চকোলেট স্প্রেড, যেটি ‘কারকুমা ভেজ-স্প্রেড’ নামে পরিচিত। স্বাদে কখনোই বোঝা যায় না যে এই ভেজ স্প্রেডের মূল উপাদানগুলো আসলে শাকসবজি। গাজর, পালং শাক, ব্রকলি, মালবেরী এবং হ্যাজেলনাটের মতো পুষ্টিসমৃদ্ধ উপাদানের সংমিশ্রণে ফলমূল ও শাকসবজিকে দেওয়া হয়েছে এক নতুন রূপ। বড়-ছোট সবার পছন্দের চকোলেট স্বাদের মধ্যে যদি শাকসবজি খাওয়া যায়—তাহলে শিশুকে তা খাওয়ানোই যায়।
এখন প্রশ্ন হতে পারে—বাজারে এত চকোলেট স্প্রেড থাকতে কেন ভেজ-স্প্রেড কিনব? কারণ, ‘কারকুমা ভেজ-স্প্রেড’ খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণগত মানের সর্বোচ্চ মানদণ্ড পূরণ করে। এটি জিএমপি, আইএফওএএম, আইএসও-২০০০, ইউএসডিএ অর্গানিক, ইউএস এফডিএ ও বিএসটিআই দ্বারা সত্যায়িত। অর্থাৎ, এটি শুধু স্বাদেই নয়, মানের দিক থেকেও একেবারে দুর্দান্ত!
তবে অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেডের স্বাস্থ্যকর পণ্যের তালিকা এখানেই শেষ নয়। অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেডের মতো একটি প্রগতিশীল ব্রান্ডের জন্য শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । আমরা সাধারনত এই সকল চকলেট স্প্রেড সম্পর্কে বিরুপ ধারনা রাখি কেননা এই খাদ্যগুলোতে চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর উপাদানের ব্যবহার অনেক বেশি। তবে,অর্গানিক নিউট্রিশনের ভেজস্প্রেড শুধুমাত্র একটি পুষ্টিকর চকলেট স্প্রেডই নয় ,এটি এমন একটি পন্য যা স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শক্তি বাড়িয়ে মনকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে যা শিশুদের বেড়ে ওঠার এই পথচলা আরো সহজ করে তোলে ।
অর্গানিক নি্উট্রিশন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দক্ষ পুষ্টিবিদ ও ফুড টেকনলোজিস্টদের সমন্বয়ে ২০১৬ সালে তাদের যাত্রা শুরু করে। ইতিমধ্যেই তারা বাংলাদেশের বাজারে বিস্তৃতভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে তাদের লক্ষ্য ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সম্প্রসারণের দিকে। আশা করা যায় , খুব শিগগিরই ভেজস্প্রেড পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের প্রতিদিনের শিশুদের প্রতিদিনের খাদ্যভ্যাসে যুক্ত হবে।