সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি ॥
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাসুদ রানা নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রবিবার (১ মার্চ ২০২৬) দুপুরে ভুক্তভোগী মাজেদা বেগমের শ্বাশুড়ি আজেদা বেগম বাদি হয়ে আদিতমারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের টিপার বাজার এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত যুবক মো. মাসুদ রানা (২৮) একই এলাকার মো. আঃ হাকিমের ছেলে। বর্তমানে সে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভুক্তভোগী মাজেদা বেগম তাবাসুমের পরিবারের সদস্যরা তামাক ক্ষেতে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী দেবর সম্পর্কের মাসুদ রানা কৌশলে বাড়িতে কেউ নেই নিশ্চিত হয়ে মাছ দেওয়ার অযুহাতে মাজেদা বেগমের ঘরে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানা ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় এবং তাকে জাপটে ধরে। ভুক্তভোগী নারী নিজেকে রক্ষায় চিৎকার ও ধস্তাধস্তি শুরু করলে লম্পট মাসুদ তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে পালিয়ে যায়।
গুরুতর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মাটিতে পড়ে যাওয়ায় মাজেদা বেগম পেটে প্রচণ্ড আঘাত পান। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে এবং পরবর্তীতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মাসুদ রানাকে ধরে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর শাশুড়ি আজেদা বেগম আজ (১ মার্চ) পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এই বিষয়ে আদিতমারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়, তবে নারীর ওপর এ ধরনের শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রকৃত বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভুক্তভোগীর পরিবার এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সাহস না পায়।