শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ॥
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি দখল করে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অবৈধভাবে দোকানপাট স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমিটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মহলবাড়ী মৌজার এসএ ১৩৬ নম্বর দাগভুক্ত সরকারি খাস জমিতে প্রায় ১৭ বছর ধরে কয়েকটি হোটেল ও দোকান স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে মহাসড়কের পাশের ফুটপাত ও চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।

লিখিত অভিযোগে উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন উল্লেখ করেন, উপজেলা পোস্ট অফিসের বিপরীতে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত সরকারি জমিতে ‘ফয়সাল হোটেল’, ‘বিসমিল্লাহ হোটেল’ ও ‘আলমগীর হোটেল’সহ কয়েকটি দোকান অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক আল্লামা ইকবাল, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক মামুন আল জিলানী অভিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলে রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তবে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশা জেগেছে যে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করবে এবং পথচারীদের জন্য ফুটপাত ও চলাচলের পথ উন্মুক্ত করবে।
এ বিষয়ে বিসমিল্লাহ (বিহারী) হোটেলের স্বত্বাধিকারী সানি বলেন, আমরা এসব বিষয়ে কিছু জানি না। আমরা প্রতি মাসে ভাড়া দিই। মালিকের সঙ্গে কথা বললেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক আল্লামা ইকবাল বলেন, এই জমি নিয়ে আগেও অভিযোগ হয়েছে। ইউএনও ও এসিল্যান্ড আমাদের ডেকে কাগজপত্র দেখতে চেয়েছেন, আমরা দেখিয়েছি। এবারও একইভাবে বিষয়টি সমাধান হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম মুঠোফোনে বলেন, লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমি এখনো অবগত নই। হয়তো আমার অফিস স্টাফদের কাছে রয়েছে। আমি বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করে ফুটপাত ও চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি ফিরে পাবে এবং মহাসড়কের পাশে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।