শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ডেস্ক ॥
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সাথে কোনো ধরনের ঐকমত্যের বা জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দলীয় কার্যালয়ে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
বিরোধীদল কে হবে?
সাক্ষাৎকারে জোট সরকার গঠনের প্রসঙ্গ উঠলে তারেক রহমান পাল্টাপাল্টি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সাথে সরকার গঠন করব? তাহলে সংসদে বিরোধীদলই বা কে হবে?” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি জানি না তারা (জামায়াত) কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধীদলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করবে।”
জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস
বিএনপি এবার সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯২টিতে নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলো ছাড়া হয়েছে মিত্রদের জন্য। দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।” উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত জোটবদ্ধভাবে সরকার পরিচালনা করলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
পররাষ্ট্রনীতি ও চীন-ভারত ইস্যু
শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয় দেওয়া এবং পরবর্তী রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে তারেক রহমান তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। বাংলাদেশ ভারতের বলয় থেকে বেরিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন:
“আমাদের তরুণদের কর্মসংস্থান প্রয়োজন, ব্যবসা প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে যারা আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, আমরা তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করব। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক হবে।”
রাজনীতিতে সবার অধিকার
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি গণতান্ত্রিক উদারতা প্রদর্শন করে বলেন, “যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হন এবং মানুষ তাকে স্বাগত জানায়, তবে রাজনীতি করার অধিকার এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের আছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বর্তমানে দেশটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে রয়েছে এবং আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে।