বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা কমার আশঙ্কা এবং ওপেকের নতুন প্রতিবেদনের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৯ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৭ দশমিক ৬৯ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩০ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তেলের ব্যবহার কমতে পারে। এ আশঙ্কায় ২০২৬ সালের বৈশ্বিক তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমানো হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা (ওপেক) জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের চাহিদা প্রতিদিন ৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। এর আগে সংস্থাটির পূর্বাভাসে চাহিদা বৃদ্ধির হার আরও বেশি ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের ব্যবহার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে পূর্বাভাসদাতারা ২০২৬ সালের বৈশ্বিক তেলের চাহিদার হিসাব কমিয়ে এনেছেন। চাহিদা কমার এই আশঙ্কাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার অন্যতম প্রধান কারণ।
তবে একই সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হলে বাজারে তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে—এমন উদ্বেগ দাম আরও বড় মাত্রায় কমে যাওয়ার পথে বাধা তৈরি করছে।
ওপেকের প্রতিবেদনে বৈশ্বিক তেলবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে চাহিদা ও সরবরাহের এই বিপরীতমুখী চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে চাহিদা কমার আশঙ্কা তেলের দামে চাপ তৈরি করছে, অন্যদিকে সরবরাহ সংকটের সম্ভাবনা দামকে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে নামতে বাধা দিচ্ছে।