শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান, সহিদুল ইসলামসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ ও রাষ্ট্রনিযুক্ত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
২১ ডিসেম্বর পলাতক দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানি করেন। একই দিন গ্রেফতার দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে ট্রাইব্যুনাল এসব আবেদন নামঞ্জুর করেন।
রেদোয়ানুল ইসলাম ছাড়াও এ মামলায় গ্রেফতার অপর আসামি হলেন- বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। বুধবার সকালে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলায় পলাতক রয়েছেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
এর আগে ১৪ ডিসেম্বর এ বিষয়ে শুনানি নির্ধারিত থাকলেও বিশেষ কারণে তা হয়নি। ৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর। এর আগে ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ান ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলামসহ অন্যরা নেতৃত্ব দেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।