শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ডেস্ক ॥
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৫। গত বুধবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের ওয়েবসাইটে ২৯৭টি আসনের কেন্দ্রভিত্তিক বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশের পর এই চিত্র উঠে এসেছে।
ভোটের চালচিত্র ও হার
২৯৯টি আসনের মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হলেও চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল আদালতের বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় আটকে আছে।
কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮৫ জন ভোটারের মধ্যে এবার ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৮১ হাজার ১৯৩ জন। ভোট প্রদানের গড় হার ৬০.২৪ শতাংশ। সংগৃহীত ভোটের মধ্যে বৈধ ব্যালট হিসেবে গণ্য হয়েছে ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ১১৩টি।
দলভিত্তিক ফলাফলের ব্যবচ্ছেদ
বিএনপি: ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দলটি মোট ২১১টি আসনে (স্থগিত দুটিসহ) জয়লাভ করেছে। তাদের মোট প্রাপ্ত ভোট ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৪, যা মোট বৈধ ভোটের ৪৯.৯৭ শতাংশ।
জামায়াতে ইসলামী: দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দলটি ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে। তাদের সংগৃহীত ভোট ২ কোটি ৩৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৯, যা শতাংশের হিসেবে ৩১.৭৭ শতাংশ।
অন্যান্য দল: জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি আসনে জয়ী হয়ে ৩.০৫% ভোট পেয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (২টি আসন), খেলাফত মজলিস (১টি আসন), গণসংহতি আন্দোলন (১টি আসন), গণঅধিকার পরিষদ (১টি আসন), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (১টি আসন) এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১টি করে আসনে জয়লাভ করেছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫০টি দলের মধ্যে ৪১টি দলই ১ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালট ও ফলাফলে প্রভাব
এবারের নির্বাচনে দেশ ও বিদেশ থেকে ১৫ লাখ ২০ হাজার ৯৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৪টি ভোট সঠিক সময়ে পৌঁছেছে এবং ৫৭ হাজার ৮৯৮টি ভোট বাতিল হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পোস্টাল ব্যালটে বিএনপির তুলনায় জামায়াত জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন এবং অন্তত দুটি আসনে পোস্টাল ব্যালটের ভোটই চূড়ান্ত জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে দিয়েছে।
সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভোট
ভোট প্রদানের হারে শীর্ষে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা-২ আসন (৭৮.২৭%)। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে ঢাকা-১২ আসনে (৩৭.৪২%)। উল্লেখ্য যে, দেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসনে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
জামানত হারিয়েছেন ৬৬ শতাংশ প্রার্থী
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ২০২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩৪৭ জনই জামানত হারিয়েছেন। অর্থাৎ ৬৬ শতাংশ প্রার্থী নির্ধারিত ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় তাদের জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে, যার পরিমাণ প্রায় পৌনে সাত কোটি টাকা।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, গেজেট প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর যোগ্য প্রার্থীরা জামানতের টাকা ফেরতের আবেদন করার সুযোগ পাবেন।