মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
রাজনৈতিক ডেস্ক: ফরিদপুর প্রতিনিধি॥
ফরিদপুরের মাটি ও মানুষের রাজনীতিতে দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন কে এম ওবায়দুর রহমান এবং চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। জাতীয় রাজনীতির এই দুই দিকপালের প্রয়াণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁদের সুযোগ্য উত্তরসূরি দুই কন্যার বিপুল জয়ে সেই আক্ষেপ মিটেছে। বাবার দেখানো পথ ধরে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু এবং চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
নগরকান্দা-সালথায় শামা ওবায়েদের জয়জয়কার:
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনটি একসময় প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক এই মন্ত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর হাল ধরেন কন্যা শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে এবার ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। জয়ের পর তিনি জানান, বাবার আদর্শকে ধারণ করে এলাকার মানুষের সেবা করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
ফরিদপুর সদরে নায়াব ইউসুফের চমক:
দীর্ঘ দেড় দশক পর ফরিদপুর সদর (ফরিদপুর-৩) আসনটি পুনরুদ্ধার করেছে বিএনপি। সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের কন্যা চৌধুরী নায়াব ইউসুফ প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নায়াব ইউসুফ তাঁর বাবার একনিষ্ঠ ভোটব্যাংক ও সাধারণ মানুষের সমর্থন কাজে লাগিয়ে নৌকার দুর্গ ভেঙে ধানের শীষকে বিজয়ী করেছেন। ২০০৮ সালের পর এই আসনটি ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
ফরিদপুরবাসীর প্রত্যাশা:
ফরিদপুরের সাধারণ মানুষের মতে, নতুন প্রজন্মের এই দুই নেত্রী কেবল বাবার উত্তরসূরিই নন, বরং নিজ যোগ্যতায় রাজনীতিতে জায়গা করে নিয়েছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা- শামা ওবায়েদ ও নায়াব ইউসুফ তাঁদের পিতৃগৌরব অক্ষুণ্ণ রেখে দেশের উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন এবং ফরিদপুরকে উন্নয়নের মডেলে রূপান্তর করবেন।