শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

বড়দিনের শুভেচ্ছা নিয়ে এখানে শান্তির দূত হিসেবে এসেছি: ভ্যাটিক্যান রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভ্যাটিক্যান সিটির বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ কেবিন রেন্ডম বলেছেন, এখানে শান্তির দূত হিসেবে এসেছি। ‘বাংলাদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ আমাকে বিমোহিত করেছে। তার চেয়ে বেশী সুন্দর লেগেছে আপনাদের হৃদয়ের ভালোবাসা। এদেশের অসাম্প্রদায়িক মনোভাব আমাকে মুগ্ধ করেছে। শুভ বড়দিন, সকলের মঙ্গল কামনা করি।

এসময় গির্জায় বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঢাকা-১ আসন(দোহার-নবাবগঞ্জ) এর ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের গোল্লা গীর্জায় স্থানীয় খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র বড়দিন উপলক্ষে ক্রিসমাস মিশায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত কেবিন বলেন, ‘গত দুই বছর যাবত বাংলাদেশে আছি। এ এলাকার নিয়মিতভাবে সবার খোঁজ রাখছি সহভাগিতার মাধ্যমে। বড়দিন সকলের জন্য শান্তির বার্তা বয়ে আনুক এ প্রত্যাশা করি। এদেশের মানুষের মঙ্গল ও সহনশীলতা দেখতে চাই। সব ধর্মের মানুষ সৌহার্দ ও সাম্য বজায় রাখুক এমনটাই আমার চাওয়া।

এসময় তিনি উপস্থিত স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। সেই সাথে তিনি বাংলাদেশের দিনাজপুর ও সিলেট ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। এরপর রাষ্ট্রদূত গীর্জার অভ্যন্তরে বড়দিনের প্রার্থনা সভায় যোগদান করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বান্দুরার হাসনাবাদ গির্জায় যাবেন বলে জানা গেছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) দিলরুবা ইসলাম, দোহার সার্কেলের এএসপি রাকিবুল ইসলাম, গোল্লা মিশনের ফাদার গ্যাব্রিয়েল কুড়াইয়া প্রমুখ।

একই সময়ে গির্জায় উপস্থিত হন ঢাকা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক। তিনি ধর্মশালার পুরোহিতের হাতে কেক দিয়ে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান।

এসময় আশফাক বলেন, সাম্য ভাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই মানুষের ধর্ম। বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের ধর্মীয় উৎসব আনন্দের সাথে পালিত হোক এ প্রত্যাশ করি। আগামী দিনগুলো যাতে সৌহার্দে্যর সাথে সবাই মিলেমিশে কাটাতে পারি এটাই কামনা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাকে সমন্নুত রেখে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলে এক কাতারে থেকে এদেশকে উন্ন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে চাই। এদেশ নিয়ে যাতে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে গোল্লা গির্জার ধর্মপুরোহিতকে গুলি করে হত্যা করার নিন্দা জানিয়ে তিনি স্বাধীনতার পরাশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর আহবান জানান।

গোল্লা মিশনের সমাজপতিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এরিক গমেজ, পরিমল গমেজ, নির্মল গমেজ, স্বপন গমেজ, পলাশ রোজারিও প্রমুখ। এছাড়া বিএনপির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খন্দকার, এরশাদ আল মামুন, মিজানুর রহমান, শাহজাহান মোল্লা, মো. জামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com