শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার মাংস বাজার সংলগ্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু ও বখাটে চক্রের তাণ্ডবে এক ব্যবসায়ীর দোকানে ভয়াবহ লুটপাট, চাঁদাবাজি ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যবসায়ী আবুল কালাম সওদাগর জানান, গত ১৩ নভেম্বর ভোর ৬টার দিকে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তার‘একে ভান্ডার স্টোর’-এ অতর্কিতে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা দোকানের তালা-গ্রিল ভেঙে ২০ বস্তা চাল ১০ বস্তা চিনি ৫ বস্তা পেঁয়াজ ২০টির বেশি তেলের বোতল সিগারেটের প্যাকেটসহ বিভিন্ন মালামাল এবং নগদ ৩৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার দিনই তিনি ফটিকছড়ি থানায় একটি জিডি করেন। তবে আটক কিছু আসামি পরে রহস্য জনক ভাবে মুক্ত হয়ে যায়, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী। জিডি করার পর ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা পরদিন রাতে দোকানে ফের হামলার চেষ্টা চালায়।
ভুক্তভোগী জানান দুর্বৃত্তরা দোকানের পেছনের ওয়াল কেটে ভেতরে ঢুকে গ্রিলের ভিতরের দিক থেকে ওয়েল্ডিং করে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। দোকানের অভ্যন্তরীণ সাইডে অতিরিক্ত লোহার প্লেট বসিয়ে ওপর–নিচ শক্তভাবে জোড়া লাগিয়ে দেয়। এরপর দোকানের সামনের অংশে তারা নতুন করে তালা ঝুলিয়ে দেয়, যাতে মালিক কোনোভাবেই দোকানে প্রবেশ করতে না পারেন। এতে দোকানটি সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, হামলাকারীরা তাকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছে। চাঁদা না দিলে দোকান গুটিয়ে নিতে হবে—এমনকি পরিবারসহ প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়। অভিযোগরা হলেন আজিম উদ্দিন ও মুসলিম উদ্দিন, পিতা: ফজল আহম্মদ ওরফে লেদু মেম্বার।
স্থানীয়দের দাবি, এরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি দখল জোর-জবরদস্তি চাঁদাবাজি প্রতারণা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতার কারণে আবুল কালাম পরে চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৮২৫/২০২৫ নং মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এলাকাবাসী বলছে, এই সন্ত্রাসী চক্র বহুদিন ধরে নাজিরহাটে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রেখেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।