রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
শুভাশীষ গোস্বামী, নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:: টানা ৪ দিনের বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের ২নং ও ৪নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে। রাজারামপুর খাল আটকে বসতি স্থাপন করায় এবং ড্রেনেজবিহীন অপরিকল্পিত রাস্তার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ফলে কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদরের পানালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হাঁটু পানি। ছাত্র-ছাত্রী শূন্য বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পাশের পানালিয়া মাঠ এখন যেন বড় এক দিঘীতে রূপ নিয়েছে। রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। রাজারামপুর, পানালিয়া, আমতলা, বাগবিরি চরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিতে রাস্তা ও বাড়ির আঙ্গিনা তলিয়ে যাওয়ায় মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় নেই বললেই চলে। মন্দিরেও সুনসান নীরবতা। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে যেতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আসিফ খান বলেন, “৪দিন ধরে আমরা পানিবন্দি। ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় নাই। বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ, বাজার করা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতি বছর একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকা ডুবে যায়।
আব্দুল জলিল বলেন, একমাত্র রাজারামপুরের খাল ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশনের কোনো জায়গা নেই। এখন খাল ভরাট করে বাড়িঘর উঠেছে। পানি যাবে কোথায়? প্রশাসনের কাছে জোর দাবি, দ্রুত খাল উদ্ধার করে আমাদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিন।”

পানালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহিউদ্দিন বলেন, “বিদ্যালয়ে আজ একজন শিক্ষার্থীও আসেনি। রাস্তায় পানি, অভিভাবকরা বাচ্চাদের পাঠাতে পারছে না। পড়াশোনা তো দূরের কথা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েই আমরা চিন্তিত। রাজারামপুরের খাল দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে আছে বলেই আমাদের এই অবস্থা। প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমরা একই সমস্যার মুখোমুখি হই। স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
স্থানীয়রা জানান, রাজারামপুরের খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও খাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা দিলরুবা বলেন, ওই এলাকার পাশে যে খালটি আছে। সেটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ স্থানটি পরিদর্শন করেছে। তাদের মাধ্যমে দ্রুতই এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়া হবে। খালের মুখে দখল হওয়ায় পানি সরতে পারছে না। তাই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।