বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন

ধামরাইয়ে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে রাতভর দলবদ্ধ ধর্ষণ, স্বর্ণালঙ্কার লুট

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ঢাকার ধামরাইয়ে বেড়াতে এসে পৈশাচিক কায়দায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্রের মুখে স্বামীকে জিম্মি করে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে ওই গৃহবধূর ওপর রাতভর পাশবিক নির্যাতন চালায়। এ সময় তারা ভুক্তভোগীর কানের দুল, চেইন ও বালাসহ প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়।

ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও ধামরাইয়ের পাবরাইল এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক তার স্ত্রীকে নিয়ে বালিয়াটি প্রাসাদ ঘুরতে যান। তাদের সাথে ছিলেন একই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী কৃষ্ণচন্দ্র মনি দাস। ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যায় তারা রামরাবন গ্রামে কৃষ্ণের বাড়িতে বেড়াতে যান। রাতে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় কৃষ্ণের বোন শান্তি রানী মনি দাসের বাড়িতে।

রাত ১২টার দিকে ৫-৭ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র চাপাতি ও রামদা নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। তারা গৃহবধূর স্বামীকে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রাতভর ওই নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

বিচার চাইতে গিয়ে মারধর
শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী দম্পতি স্থানীয় ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনি দাসসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সজীব চন্দ্র মনি দাসসহ একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামীকে লাঠিপেটা করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়।

প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে ধামরাই থানার এএসআই হারাধন সরকার জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার বা অভিযুক্ত-কাউকেই ওই গ্রামে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনি দাস দাবি করেন, তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাননি এবং এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com