সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
ফরিদ আহম্মেদ, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:: কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দিতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেহানা পারভীন এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই বর্তমান ডিলার, কৃষক এবং প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নিয়মিত সভা ও তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জোরালো মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছেন। কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অবৈধভাবে মজুতকৃত সার আটক করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে এবং সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর/২০২৫ মাসের জন্য উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ১,৩৭২ মেট্রিক টন, টিএসপি ৩২০ মেট্রিক টন, ডিএপি ৬৮০ মেট্রিক টন এবং এমওপি ৫৬৩ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই পরিমাণ সার দিয়ে বর্তমান মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। যা ৯০ হাজার কৃষক পরিবারের মাঝে সুষম বণ্টনের মাধ্যমে এই সার সরবরাহ করা হচ্ছে।
কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কৃষিবিদ রেহানা পারভীন বলেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছাতে অত্যন্ত আন্তরিক। সারের কোনো ঘাটতি নেই। যদি কোনো ডিলার বা বিক্রেতা সারের ঘাটতির অজুহাত দেখায় বা বেশি দাম দাবি করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি বিভাগকে জানানোর অনুরোধ রইল। একই সাথে তিনি ফসল আবাদে সুষম সার ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা সারের অপচয় রোধ করবে। সারের কারসাজি রোধে তিনি সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

পদ্মা নদী বিধৌত এই উর্বর অঞ্চলে ধান, পাট এবং তামাকের ব্যাপক চাষ হয়। বিশেষ করে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির সহায়তায় এখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তামাক চাষ হয়, যদিও বর্তমানে ভুট্টার চাষ তামাকের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে। এছাড়া ডাল, তৈলবীজ, সবজি এবং উন্নত জাতের আম ও লিচু উৎপাদনে দৌলতপুর সারা দেশে পরিচিত। উপজেলার একটি বড় অংশের মানুষের জীবিকা পানের বরজের ওপর নির্ভরশীল, যেখানকার ‘মিষ্টি পান’ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে দৌলতপুরে।
উপজেলা কৃষি অফিসের এই কঠোর তদারকির ফলে উপজেলার সাধারণ কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন উপজেলাবাসী।