মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি নেতা রশিদ বেপারিকে গুলি করে হত্যার ১৩বছর পর মূল হত্যাকারী জাহিদুল ইসলাম নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানা পুলিশ।
গোপন সংবাদ পেয়ে সোমবার ভোরে গাজীপুর বোর্ডবাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে দোহারের গাজীরটেক এলাকার শেখ শফিউদ্দিনের ছেলে। তার নামে হত্যা ছিনতাইসহ দোহার থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সে দোহার থানার আরো একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত আসামীও। ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিকরা মসজিদের সামনে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
দোহার থানা পুলিশ জানায়, দোহার উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সহ-সভাপতি রশিদ বেপারি মাগরিবের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হলে ওৎপেতে থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এঘটনায় নিহতের বড় ছেলে জাহাঙ্গীর বেপারী বাদী হয়ে দোহার থানায় একটি মামলা করে।
জাহাঙ্গীর বলেন, তাঁর বাবার হত্যাকারীরা গত ১৩বছর স্থানীয় আওয়ামীলীগের ও একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রীর ভাইয়ের আশ্রয়ে অধরা ছিলো। আসামী গ্রেপ্তারের দাবিতে জয়পাড়া কলেজের সামনে মানববন্ধন করলে সেদিন পুলিশ তাঁদের বাধা দিয়ে ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। তাঁরা তখন পিতা হত্যার বিচার পাননি। তিনি এসব খুনিদের ফাঁসির দাবির জানান।
ঘটনার পর হতেই মামলার মূল আসামী নয়ন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। সোমবার ভোরে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের বোর্ডবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
দোহার থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নয়ন শুধু রশিদ বেপারিকে হত্যা করেনি। সে গাজীরটেক এলাকার ইমান ফকিরকেও হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। সেই হত্যা মামলায় নয়ন যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত আসামীও। তাঁকে সোমবার দুপুরে সাজাপ্রাপ্ত হিসেবে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া রশিদ বেপারীর মামলায় ১৬৪ ধারা জবানবন্দীর জন্য আমলী আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্য আসামী গ্রেপ্তার: পুলিশ একই দিনে দোহার থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো ৬জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলো- গাজীলটেকের ফারুক আহমেদ(৫০), নবাবগঞ্জের মুসলিমহাটির আবুল বাশার (৩২), কালু বেপারী ওরফে কালু ডাকাত (৪২),শাহ আলম (৪২), সেলিম চোকদার (২৫) সিনহান (২২)।