বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: উত্তরের হিমশীতল বাতাসে কনকনে শীতে কাঁপছে দেশের সর্বোত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। তাপমাত্রা অনুযায়ী এলাকায় বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে সকাল ৯টার পর সূর্যের দেখা মিলছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ১০০ শতাংশ।
এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায়ও তেঁতুলিয়ায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় এই তাপমাত্রার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, সারাদিন উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীত আরও তীব্র আকার ধারণ করে। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে ভোরের কনকনে ঠান্ডায় কাজে বের হতে দেখা যাচ্ছে পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, ভ্যানচালক, দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষের। মহানন্দা ও ডাহুক নদীতে পাথর উত্তোলনে নিয়োজিত শ্রমিকরা বরফ শীতল পানিতে নেমেই কাজ করছেন।
এদিকে পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোতে কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। রাত ও ভোরে ঘন কুয়াশা পড়ছে। বুধবার থেকে শীতের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে যায়। সারাদিন ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করছে এবং বিকেলের পর শীত আরও তীব্র হচ্ছে। যদিও শীত বেড়েছে, তবে সরকারিভাবে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শীতের কারণে এলাকায় সর্দি, কাশি, জ্বরসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, তেঁতুলিয়ায় বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।