শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তাকে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে আটক করে পিবিআই। নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রায় ছয় ঘণ্টা তাহসিফের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন তিনি।
শুক্রবার দীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকার ২৯ নম্বর সীমানা পিলারসংলগ্ন মাঠে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। এ সময় দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটি নিহত তাহসিফের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিবিআই জানিয়েছে, দীপের দেওয়া বক্তব্যে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। ঘটনার রাতে তারা কেন ওই এলাকায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিচ্ছেন।
দীপের দাবি, তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কথা বলার সময় পুলিশ ইউনিফর্ম পরা কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। ভয়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর তিনি আড়ালে লুকিয়ে পরে সেখান থেকে পালিয়ে যান। তবে ধাওয়াকারীরা প্রকৃতপক্ষে পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, কিংবা সেখানে তাদের উপস্থিতির বৈধতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের গ্যারেজে দীপের সঙ্গে তাহসিফের দেখা হয়। এরপর মধ্যরাত পর্যন্ত তাদের মধ্যে দফায় দফায় মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার হাতের ঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ভিসেরাসহ অন্যান্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যুকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ। তার দাবি, তাহসিফ সাঁতার জানতেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট হওয়ায় তিনি সাঁতারের বিশেষ প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। ফলে ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি।
ছেলের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে এর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাহসিফের বাবা। বর্তমানে এ ঘটনায় নৌ পুলিশ মূল তদন্ত পরিচালনা করছে। পাশাপাশি পিবিআই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।