রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের দিকে সবার দৃষ্টি। ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও আগামীর নগরপিতা কারা হবেন তা নিয়ে সবখানে আলোচনা চলছে। আসন্ন সিটি নির্বাচনে ঢাকার নগরপিতার সিংহাসন পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো।
একদিকে বিএনপি চায় তাদের হারানো দুর্গ ফিরে পেতে, অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনের মতোই জামায়াতে ইসলামী ঢাকাতেও তাদের শক্তিমত্তার জানান দিতে চায়। আর জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলগুলোর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলীয় মনোনয়ন পেতে কেউ কেউ দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তবে ঢাকার নগরপিতা বাছাইয়ে তিন দলেরই বড় চমক থাকতে পারে। জাতীয় নির্বাচনের মতোই এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে বা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে পারে। সেক্ষেত্রে ঢাকার একটি সিটিতে এনসিপির একজনের মেয়রপ্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কি না বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার পরই নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, বিগত সরকারের সময় আইন পরিবর্তন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা আছে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে সাধারণ প্রতীকে ভোট গ্রহণের বিধান করে। জারি করা অধ্যাদেশগুলো ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক সংক্রান্ত সংশোধনীটি গৃহীত হলে তা আইন আকারে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবার সংসদে তোলা হবে। আইন পাস হওয়ার পরই নির্বাচনের প্রস্তুতির পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে।
বিএনপির সূত্রমতে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও জাতীয় নির্বাচনের সাফল্য ধরে রাখতে চায় বিএনপি। এ জন্য প্রার্থী বাছাইয়ে বাড়তি সতর্কতা নেবে দলটি। অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপিও পিছিয়ে নেই। কে, কোথায় সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন এ নিয়ে চলছে আলোচনা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলীয় ফোরামে আলোচনা করব। ফোরামে আলোচনা সাপেক্ষে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ করবে বিএনপি।
জামায়াতের শীর্ষ একনেতা জানান, এ বিষয়ে এখনো তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তবে অনেকের নাম আলোচনায় আসছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশেনে মেয়র পদে সম্ভাব্য আলোচনায় রয়েছেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। জামায়াত থেকে মেয়র পদে আলোচনায় আছেন ড. এমএ মান্নান ও ড. হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়াও এনসিপির অন্যতম শীর্ষনেতা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
জানা গেছে, আফরোজা আব্বাস ২০১৫ সালের দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। সেই সময়ে আওয়ামী লীগের হামলা-মামলার মধ্যে তিনি ভোটের মাঠে ছিলেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকার একটি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে পরে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে তিনি কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঢাকা-৬ আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০২০ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র নির্বাচন করেন। ইশরাক হোসেন বলেন, যদি দল মনে করে ও আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি নির্বাচন করব।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান। আর জামায়াতে ইসলামীর আলোচনায় আছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ডা. খালেদুজ্জামান, ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও জামায়াতের শীর্ষ আইটি বিশেষজ্ঞ সিরাজুল ইসলাম। এ ছাড়া নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও আলোচনায় আছে।
এনসিপির একটি সূত্র জানিয়েছে, ১১ দলীয় জোটের আলোচনায় আছে একটি সিটিতে এনসিপি, আরেকটি জামায়াত নির্বাচন করবে। সেই হিসেবে সাবেক উপদেষ্টা এনসিপির অন্যতম শীর্ষনেতা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়াকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। আর জামায়াতকে ঢাকা উত্তর সিটি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, এ বিষয়ে দলের কোনো নীতিনির্ধারণী ফোরামে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাব। তা ছাড়া সরকার এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কোনো তফসিল ঘোষণা করেনি।