শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে চার শিপ ইয়ার্ডে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভ্যাট কমিশনের অভিযানের ঘটনায় শিপ ইয়ার্ডের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জাহাজভাঙা শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)।
বুধবার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। বিএসবিআরএ’র সচিব নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযান চালানো কারখানাগুলো হলো- প্রিমিয়ার ট্রেড করপোরেশন, এস এন করপোরেশন, ভাটিয়ারি স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড এবং মাহিনুর শিপব্রেকিং ইয়ার্ড।
বিএসবিআরএর সহকারী সচিব নাজমুল ইসলাম বলেন, ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত কোন রেকর্ডপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন মনে করলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় ইয়ার্ড মালিকদের নিকট চাইতে পারেন। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের ৩টি দল বিনা নোটিশে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে অবস্থিত শিপ ইয়ার্ডের অফিসগুলোতে অভিযানে ইয়ার্ড অফিস থেকে বেশ কিছু রেকর্ডপত্র, রেজিস্ট্রার ও কম্পিউটার নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের ভ্যাট কার্যালয়ে নিয়ে গেছে। এমনকি তারা অভিযানের নামে অফিসের সবকিছু তছনছ করে।
তিনি জানান, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের এ ধরণের ঘটনায় আমরা হতভম্ব। এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে সীতাকুণ্ডে সব কটি জাহাজভাঙা কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে বিএসবিআরএ। যার কারণে সকাল থেকে আমাদের শিপ ইয়ার্ডের সব কারখানা থেকে জাহাজ কাটা, স্ক্র্যাপ বিক্রি, সরবরাহসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এ অভিযানের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে বিএসবিআর জরুরি বৈঠকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমদানিকৃত স্ক্রাপ শিপ সমুদ্রের বহিঃনোঙরে পৌঁছার পর কাস্টমস এর রামেজিং দল সরেজমিন জাহাজ পরিদর্শন করে শুল্ক নির্ধারণ করেন। সেই নির্ধারিত শুল্ক ইয়ার্ডগুলোতে জাহাজ বিল্ডিংয়ের পূর্বে অগ্রিম পরিশোধ করা হয়ে থাকে। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক মূল্য সংযোজন কর (মূসক), সম্পূরক শুল্ক ইত্যাদি জাহাজ বিভাজনের পূর্বে অগ্রিম পরিশোধ করা হয়। সুতরাং এক্ষেত্রে ভ্যাট ও শুল্ক ফাঁকি দেয়ার কোন সুযোগ নেই। ইয়ার্ড মালিকগণ প্রতি অর্থবছরে শুল্ক, ভ্যাট ও কর বাবদ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব প্রদান করে।
উল্লেখ্য, কোনো ইয়ার্ড মালিক মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ বা তদধীন প্রণীত কোনো বিধান লঙ্ঘন করে কোনো পণ্য সরবরাহ করেননি বা কোনো সেবা প্রদান করেননি। সুতরাং কথিত পণ্য বা সেবা প্রদানের সাথে সংশ্লিষ্ট দলিলাদি, রেকর্ডপত্র, কম্পিউটার জব্দ করা সমীচিন হয়নি। এতে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ড মালিকদের সাথে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে বলে বিএসবিআরএ মনে করে।