শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন

ঘোড়াঘাটে রাজাকার ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায়

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌর সদরের রাজাকার কমান্ডার ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঘোড়াঘাট সদরের নুরজাহানপুর গ্রামের মৃত্যু দিলজান আলীর পুত্র ওয়াকিল হোসেন সে রাজাকার কমান্ডার হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে যোগদান করে ঘোড়াঘাট,পলাশবাড়ী এলাকায় অগ্নিসংযোগ,লুটপাট,ভাংচুরকরাসহ নারী ধর্ষন ও হত্যার ঘটনা ঘটাইয়াছেন।

এই ওয়াকিলের কবলে থেকে বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষ দর্শী খন্দকারটোলা গ্রামের মৃত্যু দিয়ানোতুল¬্যা  কবিরাজের পুত্র বৃদ্ধ মোনাজ্জল হক(ভাষানী) জানান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে রাজাকার কমান্ডার ওয়াকিল তার দল-বল নিয়ে পলাশবাড়ী থানার জাফরপুর, মগলিশপুর, কাশিয়াবাড়ী গ্রামে লুটপাট করার সময় হাত হতে ধরা পরে।

পরবর্ত্তিতে ঐ গ্রাম গুলিতে হত্যা, অগ্নিকান্ডসহ লুটপাট করা হয়। মোনাজ্জল হক ভাষানী তার বনর্না দিতে দিতে হাউ মাউ করে কেঁদে উঠে।এছাড়া ঘোড়াঘাট সদরের আনোয়ারের স্ত্রী আলেয়াসহ একাধীক নারীকে লেলিয়ে দেন, খানসেনাদের হাতে।এই রাজাকার কমান্ডারের ছেলে ইব্রাহিম খলিল (মিষ্টার) কর্তৃক ঘোড়াঘাট,পলাশবাড়ী, মগলিশপুর, জাফর, গনকপাড়া, কুমারপাড়া,কাশিয়াবার্ড়ী এলাকায় লুটপাট অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষন হত্যাকান্ড চালিয়েছে।

রাজাকার ওয়াকিল যুদ্ধ অপরাধী তালিকায় অর্ন্তর ভুক্ত হয়ে জেল হাজুতে আটক থাকে এবং তার ছেলে ইব্রাহিম খলিল (মিষ্টার) যুদ্ধ অপরাধী)।সে ভারতে পালিয়ে গিয়ে বহু বছর অবস্থান করেন,ভারতের নাগরিক হিসেবে প্রত্যয়ন পায়। এরপর ইব্রাহিম খলিল মাঝে মধ্যে চোরাইপথে বাংলাদেশে এসে ঘোড়াঘাটে অবস্থান করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে তার পিতার জায়গাতে নাম মাত্র একটি বাড়ী করে সে অবৈধ ভাবে ভারতে যাতায়াত করছে। এই ওয়াকিলের ছেলে আব্দুল কাদের সংশি¬ষ্ঠ কোন এক অজ্ঞাত শক্তির বলে বি এন পি ক্ষমতাশীন সরকারের আমলে ২০০৩ সালে তার পিতা রাজাকার কমান্ডার যুদ্ধ অপরাধীর নাম থাকা সর্তে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় তালিকায় অন্তর ভুক্ত করে ভাতা ভোগ করার চেষ্টা করেন। যার ক্রমিক নং ১৬৯০৫, বিজিও নং ২৬১৯০, তাং ২২/১২/২০০৩ পৃষ্টা নং ১২২৩৫।

এই রাজাকার কমান্ডার ওয়াকিল হোসেন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকার বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই কালে উপজেলা হল রুমে নির্বাহী অফিসারের সভাপত্বিতে যাচাই কমিটিতে রাজাকার কমান্ডারের নাম সংক্রান্তে উপস্থাপন হলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগের ঝড় তুলে তাকে রাজাকার কমান্ডার বলে সনাক্ত করে এবং মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হতে তার নাম বাতিলসহ শৃষ্টিকারী মুলহোতা ও উপস্থাপনকারী আব্দুল কাদের এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি করে।

এছাড়া ঘোড়াঘাটে এখনো যে সকল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ভুক্ত হতে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তাদেরকে জাতীয় তালিকা ভুক্ত করনে সচেতন মহল সরজমিনে তদন্ত করে রাজাকার কমান্ডার ওয়াকিল হোসেনের জাতীয় তালিকার নাম বাতিল করনের পিছনে অবৈধ শক্তির উদঘাটনে জরিতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন পুর্বক বাদপড়া মুক্তিযোদ্ধাকে জাতীয় তালিকা ভুক্ত করনে সংশি¬ষ্ট প্রধান মন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী, জেলা,উপজেলা কমান্ডারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com