বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন

গরিমা ও গৌরবের ৫৫ বছর: আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
আজ ২৬শে মার্চ। রক্তস্নাত পলিমাটিতে গড়া বিশ্ব মানচিত্রের বীরত্বগাথা- মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে যে মুক্তির বীজ বপন করা হয়েছিল, তা আজ এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে।

ইতিহাসের রক্তঝরা অধ্যায়
ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর শুরু হয় পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ ও নিপীড়ন। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় সত্ত্বেও ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা- বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে স্বাধীনতার সংগ্রামে রূপ দেয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই রাতেই চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, যা ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।

স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রদ্ধা
আজ প্রত্যুষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, স্পিকার, মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি ভালোবাসা নিবেদন করেছেন। দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে একটি ইনসাফভিত্তিক, নিরাপদ ও কর্মমুখর বাংলাদেশ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, “স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। সেই চেতনাকে উজ্জীবিত করে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”

দিবসের কর্মসূচি
প্যারেড স্কয়ার: সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। সর্বসাধারণের জন্য ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ নম্বর ফটক উন্মুক্ত ছিল।

বঙ্গভবন: বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।

অন্যান্য: সারাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ প্রার্থনা।

সাফল্য আর সংগ্রামের ৫৫ বছর পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ নতুন এক সমৃদ্ধির স্বপ্নে বিভোর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com