শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
খুলনা ব্যুরো:: বেশ কিছুদিন ধরে বিএনপির পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও এবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একই ধরনের আশঙ্কা এল। আজ রোববার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। তাদের শঙ্কা, ভোটের দিন সন্ত্রাসীদের জড়ো করে বিএনপি সন্ত্রাস করতে পারে। আর বিএনপি বরাবরের মতো আজও ভোট ডাকাতির আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে।
আজ সকাল থেকেই খুলনায় ছিল রোদ বৃষ্টির খেলা। কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি। এরই মধ্যে মাঠে রয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের প্রার্থীরা। চালাচ্ছেন শেষ মুহূর্তের প্রচার। থেমে নেই মেয়র পদে প্রধান দুই প্রার্থীর অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ।
খুলনার নির্বাচনে মেয়র পদে এবার পাঁচজন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজ্জাম্মিল হক হাতপাখা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু কাস্তে এবং জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান লাঙল প্রতীকে মেয়র প্রতীকে লড়বেন।
সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দিনের শুরু করেন বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আশঙ্কা প্রকাশ করেন ভোট ডাকাতির। এরপর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভোট চেয়ে জনসংযোগ করেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকও সকাল থেকেই মাঠে নেমে পড়েন। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে তাঁর সমর্থকেরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন নগরীর বিভিন্ন অংশ। দিনের বেলায় তাঁদের নজর ছিল বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরে। সেখানে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চান। এরই মধ্যে লোয়ার যশোর রোড এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। তালুকদার আবদুল খালেকের পক্ষে আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি শহরের আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক বহিরাগত এনে জমায়েত করেছে। নির্বাচনের দিন এদের দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে কামাল হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না, সেটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, শুরু থেকেই বিএনপি মিথ্যাচার করছে। গতকাল মঞ্জুর দুই কর্মীকে ৪০ হাজার টাকাসহ আটক করে পুলিশ আবার ছেড়ে দিয়েছে বলে আমরা শুনেছি। আওয়ামী লীগের এ নেতার আশঙ্কা, জামায়াতের নারী কর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে তাদের মাধ্যমে নাশকতা করতে পারে বিএনপি।
বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এবারের নির্বাচন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি পরীক্ষা হলেও ইতিমধ্যেই তারা ফেল করেছে। ভোট নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও সরকারের ভোট ডাকাতির নির্বাচনের আয়োজনে সবকিছুই ভেস্তে যেতে বসেছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ‘অতি উৎসাহী ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততার’ সমালোচনা করেন তিনি। বিভিন্ন এলাকায় ভোট ডাকাতির আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে মন্তব্য করে মঞ্জু বলেন, এরই মধ্যে চরমপন্থী-সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছে। তিনি সব কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সব জায়গাতেই সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সব ধরনের নাশকতা এড়াতে আজ রোববার দুপুর থেকে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে।
খুলনায় আজ মধ্যরাত থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রচারে। ভোটারদের কাছে আরজি জানাচ্ছেন ভোটের জন্য।
তবে ভোটারদের ভেতরও একধরনের আশঙ্কা রয়েছে। দলীয় কর্মীরা মন খুলে ভোটের প্রচারে থাকলেও সাধারণ ভোটাররা যেন অনেকটাই সতর্ক। কেউই ভোটের বিষয়ে মুখ খুলতে চান না। তবে প্রথম আলোর কাছে অনেকেই বলেছেন, ভোটকেন্দ্র যাওয়ার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে তাঁরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। তবে কোনো ঝুঁকি দেখলে ভোটকেন্দ্র যাবেন না।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৫ জন নারী কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। এবারের নির্বাচনে ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। ভোট হবে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে। দুটি ওয়ার্ডের দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। সেখানে মেয়র প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক এবং সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীকে বোতাম চেপে ইভিএমে ভোট দেবেন ভোটাররা।