শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
খুলনা ব্যুরো : খুলনায় যুবক শাহজালালের দু’ চোখ উৎপাটন মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগর হাকিম আমলী আদালতে বাদির পক্ষে এ পিটিশন দাখিল করা হয়।
নারাজি পিটিশনে পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদন, মনগড়া, পক্ষপাতমূলক, কথিত এবং সর্বপরি ঘটনাকে আড়াল করে আসামি পুলিশ কর্মকর্তাদেরর রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে পক্ষপাতিত্ব প্রতিবেদন বর্জন পূর্বক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির আদেশ চাওয়া হয়েছে। আদালতের বিচারক মো. শাহীদুল ইসলাম শুনানি শেষে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
আদালতে দাখিলকৃত নারাজি পিটিশনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনা প্রমানের জন্য যথেষ্ট সাক্ষ্য, প্রমান, তথ্য উপাত্য এবং আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা স্বত্ত্বেও পিবিআই পরিদর্শক মো. বাবলুর রহমান খান সম্পূর্ণ মনগড়া ও পক্ষপাতমূলক কল্পকাহিনী বর্ণনায় আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। যে কারণে বাদি অপূরণীয় ক্ষতিগ্রস্থ ও ক্ষুব্ধ হয়ে নারাজি দাখিল করেছেন। এছাড়া পিটিশনে ১৫টি পয়েন্ট উল্লেখ করে ঘটনার স্বপক্ষে এবং আসামিদের বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্ব প্রতিবেদন বর্জন পূর্বক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির আদেশ চাওয়া হয়েছে।
বাদিপক্ষের আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, তারা পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন দাখিল করেছেন। শুনানি শেষে আদালত আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে আদালতে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে পিবিআই পরিদর্শক মো. বাবলুর রহমান খান উল্লেখ করেন, মামলার প্রধান আসামি খালিশপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাসিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্বপক্ষে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। একইভাবে আসামি এএসআই রাসেল, এসআই তাপষ কুমার পাল, এসআই মো. মোরসেলিম মোল্লা, এসআই মো. মিজানুর রহমান, কনস্টেবল আল মামুন, আনসার সিপাহী মো. আফসার আলী, ল্যান্স নায়েক আবুল হাসেম, আনসার নায়েক রেজাউল হক, এসআই মো. নূর ইসলাম এসআই সৈয়দ সাহেব আলী, সুমা আক্তার এবং মো. রাসেলের বিরুদ্ধেও অভিযোগের স্বপক্ষে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘তবে তদন্তকালে জানা যায়, ভিকটিম শাহজালাল ওরফে শাহ জামাল ওরফে শাহ গত ১৮ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় খালিশপুর থানাধীন গোয়ালখালি বাসস্ট্যান্ডে ছিনতাইকালে হাতে-নাতে ধুত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনগন কর্তৃক মারপিটের শিকার হয়। এতে তার দু’ চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে চোখ দু’টি নষ্ট হয়ে যায়। তদন্তকালে এ নৃশংস ঘটনায় কে বা কারা জড়িত তা সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি’।
উল্লেখ্য আদালতে দাখিলকৃত শাহজালালের মায়ের এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৮ জুলাই শাহ জালাল নগরীর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনীর শ্বশুর বাড়ি থেকে রাত ৮টায় শিশু কন্যার দুধ কেনার জন্য বাসার পাশ্ববর্তী দোকানে যায়। এ সময় খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খানের নির্দেশে তাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে ওসি তাকে ছাড়ানোর জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তারা শাহজালালকে পুলিশের গাড়ীতে করে বাইরে নিয়ে যায়। পরদিন ১৯ জুলাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তাকে দু’টি চোখ উপড়ানো অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় শাহজালাল জানান, পুলিশ কর্মকর্তারা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গাড়ীতে করে গোয়ালখালি হয়ে বিশ্ব রোডের (খুলনা বাইপাস সড়ক) নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তার হাত-পা চেপে ধরে এবং মুখের মধ্যে গামছা ঢুকিয়ে স্ক্রু ডাইভ্রার দিয়ে দু’টি চোখ উপড়ে ফেলে। এ ঘটনায় শাহজালালের মা রেনু বেগম বাদি হয়ে ৭ সেপ্টেম্বর খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় খালিশপুর থানার ১১ পুলিশ ও আনসার কর্মকর্তাসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়।