শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

কোন রঙের খাবার খেলে কী হয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক:: রঙ ছাড়া জীবন কেমন হয়? একঘেয়ে, নিস্তেজ এবং অনুপ্রেরণাহীন। খাবারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। রঙহীন প্লেট কেবল ম্লানই দেখায় না, খাওয়ার আগ্রহও কমিয়ে দেয়। আমরা প্রথম কামড় খাওয়ার আগেই চোখ দিয়ে খাই। আমরা খাবার দেখি এবং গন্ধ পাই, আমাদের মস্তিষ্ক এক ধরনের সংকেতের সৃষ্টি করে যা শরীরকে হজমের জন্য প্রস্তুত করে। কিন্তু দৃশ্যমান আবেদনের বাইরেও, একটি রঙিন প্লেট পুষ্টির শক্তি।

প্রকৃতি উদ্ভিদ রঞ্জক ব্যবহার করে ফল এবং শাকসবজিকে প্রাণবন্ত রঙে রঙিন করে। এর মধ্যে ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড এবং অ্যান্থোসায়ানিন রয়েছে। এই রঞ্জকগুলো ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট নামেও পরিচিত। এগুলো আমাদের শরীর দ্বারা উৎপাদিত হতে পারে না, তবে বিভিন্ন রোগ, প্রদাহ, সংক্রমণ এবং কিছু নির্দিষ্ট ক্যান্সার থেকে আমাদের রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন রঙের খাবারে কী পুষ্টি থাকে-

১. লাল রঙের খাবার:: লাল ফল এবং সবজির জন্য লাইকোপিন নামক রঞ্জক পদার্থ দায়ী, যা পরিচিত সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মধ্যে একটি। এ ধরনের খাবার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে লাইকোপিন চোখের ম্যাকুলার ক্ষতিও ধীর করতে কাজ করে।

প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এবং স্তন ক্যান্সারের অগ্রগতি ধীর করতে কাজ করে লাল রঙের খাবার। এছাড়া এ ধরনের খাবার অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে মস্তিষ্কের কোষকে রক্ষা করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়-হৃদরোগের জন্য প্রধান ঝুঁকির কারণ।

উৎস: টমেটো, তরমুজ, গোলাপী পেয়ারা, জাম্বুরা, লাল গাজর।

২. কমলা এবং হলুদ: এই রৌদ্রোজ্জ্বল রঙগুলো বিটা-ক্রিপ্টোক্সানথিন থেকে আসে, যা কোষ যোগাযোগ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সমর্থন করার জন্য পরিচিত একটি যৌগ। বার্ধক্য, প্রদাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগকে ত্বরান্বিত করে এমন ফ্রি র‍্যাডিকেলকে নিউট্রাল করতে কাজ করে। দৃষ্টি শক্তি এবং ত্বক সুস্থ রাখতেও কাজ করে।

উৎস: আম, পেঁপে, কমলা, কুমড়া, হলুদ ক্যাপসিকাম।

৩. সবুজ খাবার: সবুজ রঙের খাবারের জন্য ক্লোরোফিল দায়ী। এটি প্রকৃতির কিছু সমৃদ্ধ পুষ্টি উপাদান বহন করে। এর বিটা ক্যারোটিন এথেরোস্ক্লেরোসিস, ক্যান্সার, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং ডিএনএ ক্ষতি প্রতিরোধে সহায়তা করে। ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে, এলডিএল কোলেস্টেরল কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ভিটামিন কে এবং পটাসিয়াম রক্ত জমাট বাঁধা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য। সালফোরাফেন এবং আইসোথিওসায়ানেট ডিটক্সিফিকেশনে সহায়তা করে, কোলন স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

উৎস: পালং শাক, ব্রকলি, কেল, সজনে ডাটা, মেথি, সবুজ ভেষজ, অ্যাসপারাগাস, কিউই, বাঁধাকপি, স্প্রাউট, গ্রিন টি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com