শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল-আমিন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শেখ আল-আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮), তাঁর বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (৩০) এবং শেখ আল-আমিনের সহযোগী আসমানী খাতুন ওরফে আসমা (২৪)।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় অবস্থিত উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণের খবর পায় পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, মাদ্রাসার দুটি কক্ষের দেয়াল ও ছাদের অংশবিশেষ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ২০২২ সালে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার সারুলিয়া কুল্লা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রকিত শেখের ছেলে শেখ আল-আমিন (৩২) ওই ভবনের দুটি কক্ষে ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছিলেন। ভবনের অপর দুটি কক্ষে তিনি স্ত্রী ও তিন শিশু সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।
বিস্ফোরণে আল-আমিনের দুই সন্তান উমায়ের (১০) ও আব্দুর রহমান (২) আহত হয়। ঘটনার পর আল-আমিন তাঁদের চিকিৎসার জন্য প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখান থেকে তিনি পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রাসায়নিক দ্রব্যাদি, চারটি ককটেল সদৃশ বস্তু, একটি ল্যাপটপ, একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মনিটর উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আল-আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে বাগেরহাট থেকে ইয়াছমিন আক্তার ও রাজধানীর বাসাবো এলাকা থেকে আল-আমিনের সহযোগী আসমানী খাতুন ওরফে আসমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি মিজানুর রহমান আরও বলেন, ২০১৭ ও ২০২০ সালে পলাতক শেখ আল-আমিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট সাতটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার আসমানী খাতুনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস দক্ষিণ) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, তিন বছর আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসানাবাদ এলাকায় পারভীন বেগমের মালিকানাধীন ওই ভবনটি ভাড়া নিয়ে মুফতী হারুন নামের এক ব্যক্তি মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে হারুন তাঁর শ্যালক আল-আমিন ও শ্যালকের স্ত্রী আছিয়াকে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব দেন। ভবনের এক পাশে তিনটি কক্ষে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অপর পাশের একটি কক্ষে পরিচালক আল-আমিন পরিবারসহ তিন বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন।