শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় অবিস্থত উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় মাদ্রাসাটির পরিচালক আল আমিন শেখ ওরফে রাজিবের স্ত্রীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আল-আমিন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির তামিম-সারোয়ার গ্রুপের সদস্য। তার বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাটে। গত তিন বছর ধরে কেরানীগঞ্জের ওই বাড়িটিতে পরিবার নিয়ে বসবাসের পাশাপাশি মাদ্রাসা পরিচালনা করছিলেন তারা।
গতকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় বিষ্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে একাধিক বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
এছাড়া মাদ্রাসার পরিচালক আল-আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগমকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাদ্রাসার আড়ালে আল-আমিনের বোমা বানানোর কর্মাকাণ্ডে জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে আল-আমিন পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় মাদরাসা ভবনে বিস্ফোরণের সময় আল আমিন তার স্ত্রী আছিয়া বেগম এবং তাদের দুই সন্তান উমায়েত ও আব্দুল্লাহ বাসাটিতে অবস্থান করছিলেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তান আহত হলে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই ভবনের চারপাশের দেয়াল উড়ে যায়। একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের আরও দুটি কক্ষেও ফাটল ধরেছে। এছাড়া সংলগ্ন একটি ভবনের দেয়াল ও জানালাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মাদরাসা ভবনের এক পাশে তিনটি কক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অপর পাশের একটি কক্ষে পরিচালক শেখ আল আমিন পরিবারসহ গত তিন বছর ধরে বসবাস করছিলেন। মাদরাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মাদরাসা বন্ধ ছিল। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে আজ শনিবার সকালে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে আজ বিকালে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে।
এর আগে ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী থেকে জেএমবি সদস্য শেখ আল-আমিনসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। সে সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার, ৫ রাউন্ড গুলি, ২টি চাকু, বিস্ফোরক দ্রব্য, জিহাদি বই ও লিফলেট উদ্ধারের তথ্য দিয়েছিল র্যাব।