শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি:: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঘটনার মূল অভিযুক্ত মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল-আমিন (৩২) এখনও পলাতক রয়েছেন।
রোববার গ্রেপ্তার ছয়জনকে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তিন পুরুষ আসামির প্রত্যেকের সাত দিন ও তিন নারী আসামির প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সর্বশেষ গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- শাহিন ওরফে আবু বকর ওরফে মুসা ওরফে ডিবা সুলতান (৩২), মো. আমিনুর ওরফে দর্জি আমিন (৫০) এবং মো. শাফিয়ার রহমান ফকির (৩৬)।
এর আগে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল-আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮), আছিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (৩০) ও আসমানী খাতুন ওরফে আসমা (২৪) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিস্ফোরণের ঘটনায় গত শনিবার পুলিশ বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিস্ফোরণে মাদ্রাসা ভবনের দেয়াল, ছাদ ও বিমের অংশ ভেঙে মেঝেতে পড়ে আছে। ভবনের প্রবেশপথ টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। একাধিক কক্ষে ভাঙাচোরা আসবাব ও মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ভবনের পূর্ব পাশে সিঁড়ির লাগোয়া একটি দেয়াল পার্শ্ববর্তী ভবনের দিকে হেলে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, বিস্ফোরণের পর থেকে আমরা খুব আতঙ্কে আছি। আগে বুঝতে পারিনি ভেতরে কী চলছিল। ঘটনার পর থেকে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
হাসনাবাদ কন্টেইনার সড়ক এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, বিস্ফোরণের পর এলাকার মানুষজনের মধ্যে ভয় ঢুকে গেছে। রাতে অনেকে বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছে না। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর স্বার্থে প্রশাসনের টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত।
ভবনটির মালিক পারভীন বেগম বলেন, কয়েক বছর আগে হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় জমি কিনে একতলা ভবন নির্মাণ করি। পরে হারুন অর রশীদ নামের এক ব্যক্তি মাদ্রাসা পরিচালনার কথা বলে ভবনটি ভাড়া নেন। তিনি শিশুদের কিতাব শিক্ষা ও নামাজের কথা বলেছিলেন। সেই বিশ্বাসেই কম ভাড়ায় বাড়িটি দিয়েছিলাম। পরে তিনি দায়িত্ব দেন তাঁর শ্যালক শেখ আল-আমিনকে। শেষমেষ তারাই আমার সর্বনাস করলো। তিনি আরও বলেন, কষ্টের টাকায় গড়া আমার বাড়িটি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি এর ক্ষতিপূরণ চাই।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তিনি আরও বলেন, পলাতক শেখ আল-আমিনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস দক্ষিণ) তরিকুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের উৎস, এর পেছনের উদ্দেশ্য ও কোনো উগ্রপন্থী তৎপরতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল-আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আবদুল্লাহ (৭) আহত হন। ঘটনার পর আল-আমিন তার আহত স্ত্রী ও সন্তানদের প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পরিবারকে রেখে আল-আমিন পালিয়ে যান। পরবর্তীতে এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল-আমিনের (৩২) স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮), আছিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (৩০) ও আসমানী খাতুন ওরফে আসমা (২৪) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিস্ফোরণের ঘটনায় গতকাল শনিবার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান।