বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়া-১ আসনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাবলু মোল্লাকে নিয়ে চিন্তিত নন বিএনপির রেজা

সাবেক এমপি বাচ্চু মোল্লা ও বিদ্রোহী প্রার্থী হাবলু মোল্লা

ফরিদ আহমেদ, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:: কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার বিরোধিতা করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আলোচিত নেতা নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা। প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর সমর্থকদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি।

স্বাধীনতার পর যতগুলো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, ২০০৮ সালের নির্বাচন ছাড়া সবগুলোতেই বিএনপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন এখানে। এই আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার বাবা আহসানুল হক পচা মোল্লা। ২০০৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে তাঁর উপরই আস্থা রেখেছে দলের সাধারণ মানুষ। তবে তাঁরই দূর সম্পর্কের আত্মীয় নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর প্রত্যাহার না করায় ২১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় বিএনপি হাবলু মোল্লাকে বহিষ্কার করে। তারপরও মাঠে আছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি অংশের সঙ্গে হাবলু মোল্লার ভালো সম্পর্ক আছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটেই নির্বাচিত হবেন বলেও আশায় আছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাবলু মোল্লা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। এ কারণে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এরপর তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর আবারও সক্রিয় হন হাবলু মোল্লা। তাঁর বিরুদ্ধে মাহবুব উল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠ এক শিল্পপতির কাছ থেকে হ্যারিয়ার গাড়ি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া তামাক ও নকল সিগারেটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে হাবলু ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিতে এসে একটি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জকে কুষ্টিয়া ছাড়া করার হুমকিও দিয়েছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে সেই অডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নানা সময় বক্তব্য দিয়ে আলোচিত হন হাবলু মোল্লা।

এবিষয়ে হাবলু মোল্লা বলেন, আমি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করেছি এমন প্রমাণ দিতে পারলে তাঁকে ১০ কোটি টাকা দেব। আমি ধানের শীষের বিরুদ্ধে প্রার্থী হইনি। আমি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি। তাদের পরিবারের (বাচ্চু মোল্লা) নানা অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ জানাতে আমি মাঠে থাকব। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হাবলু মোল্লা বলেন, পলাতক নেতাদের সমর্থকরা তাঁকে সমর্থন দিতে পারেন। নিরীহ আওয়ামী লীগ কর্মীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য তিনি ভূমিকা রাখছেন। এসব কারণেই তিনি আওয়ামী লীগের ভোট পাবেন বলে আশাবাদী।

একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির শাহরিয়ার জামিল জুয়েল নির্বাচনী মাঠে আছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বিচ্ছিন্ন ভোট থাকলেও জয়ের মতো অবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। অতীতের দুটি নির্বাচনে জামায়াত একক নির্বাচন করে ১০ হাজারের কম ভোট পায়। আর ইসলামী আন্দোলনের তেমন সমর্থন নেই। জাতীয় পার্টির এক সময় ভোট থাকলেও তা কমেছে। এসব বিবেচনায় প্রার্থী বেশি থাকলেও সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বিএনপির বাচ্চু মোল্লা। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি প্রয়াত আফাজ উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গেও বাচ্চু মোল্লার পরিবারের আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে। এই পরিবারের একটি বড় সমর্থন আছে উপজেলায়। এই ভোটও বাচ্চু মোল্লার পক্ষে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সমর্থকরা বিএনপিতে যোগও দিয়েছেন।

হাবলু মোল্লার মাঠে থাকাকে আমলে নিচ্ছেন না বিএনপি প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। তিনি বলেন, ‘তাঁকে (হাবলু মোল্লা) সবাই চেনেন। তিনি কেমন মানুষ আমি বলতে চাই না। মানুষ তাঁকে আগেও বর্জন করেছিল। এবারও করবে। তাঁকে নিয়ে আমি মাথা ঘামাচ্ছি না। তাঁকে হিসেবেই ধরছি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com