সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন

ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ফিলিস্তিনের গাজায় দীর্ঘ ১৫ মাস পর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান হতে যাচ্ছে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা এই যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুমোদন করেছে। আগামী রোববার থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভার যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ। এখন পূর্ণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে রোববার থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন তিনি। তবে চুক্তিটি ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

যুদ্ধবিরতির এই চুক্তি যদি শেষ পর্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়ন শুরু হয়, তাহলে তা চরম বিভীষিকার মধ্যে থাকা গাজাবাসীর জন্য স্বস্তি নিয়ে আসবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতাও কমে আসতে পারে। গাজা যুদ্ধ ঘিরেই লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকে হিজবুল্লাহ ও হুতির মতো ইরানপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল।

গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের ঐকমত্যের বিষয়টি গত বুধবার সামনে আনে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার। এরপর শুক্রবার নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা ও সরকারের অনুমোদনের পর চুক্তি বাস্তবায়ন ও জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টি পরিকল্পিত কাঠামো অনুযায়ী এগোবে। রবিবার থেকে জিম্মি মুক্তি শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা সহিংসতার শুরুর দিকে একবার মাত্র অল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এরপর যুদ্ধবিরতির জন্য দফায় দফায় আলোচনা হয়। তবে আশার আলো দেখা যায়নি। সম্প্রতি চুক্তির জন্য জোর তৎপরতার মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হন হামাস ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা। তবে এ নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেন ইরায়েলের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকে।

মূল সমস্যাটা ইসরায়েল সরকার কট্টর ডানপন্থিদের। যেমন মন্ত্রিসভায় ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন পেলে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভির। একই ধরনের হুমকি দেন অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মরিচও। তবে কট্টরপন্থীদের বিরোধিতার পরও সরকারের মন্ত্রীদের বেশির ভাগই চুক্তির পক্ষে রয়েছেন বলেই নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে দেখা গেছে।

চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভার ভোট গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে হামাস চুক্তির কয়েকটি শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তা এক দিন পেছানো হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com