রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এখন এক বিধ্বংসী যুদ্ধের রূপ নিয়েছে, যার ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। সম্প্রতি তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে ইরান। নজিরবিহীন এই পাল্টা আক্রমণে ইসরায়েল অভিমুখে অন্তত ৭০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
ইসরায়েলজুড়ে জরুরি অবস্থা ও আতঙ্ক
ইরানের এই অতর্কিত হামলার পরপরই পুরো ইসরায়েলজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। জেরুজালেম, হাইফা ও শেফেলাসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে সাইরেন বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে দ্রুত বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী বর্তমানে আকাশপথের হুমকি মোকাবিলা এবং হামলার উৎসস্থলে পাল্টা আঘাত হানার জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছে।
তিন ফ্রন্ট থেকে সাঁড়াশি আক্রমণ
ইসরায়েল বর্তমানে কেবল ইরানের মোকাবিলা করছে না, বরং তারা এক ভয়াবহ ‘ত্রিমুখী’ আক্রমণের মুখে পড়েছে।
ইরান: সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করছে।
লেবানন: উত্তর দিক থেকে হিজবুল্লাহর লাগাতার রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ইয়েমেন: দক্ষিণ দিক থেকে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর ও ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে।
এই ত্রিমুখী আক্রমণের ফলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক চরম পরীক্ষার মুখে পড়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার দেশটিকে যুদ্ধের ভয়াবহতায় টেনে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা
ইরানের এই প্রতিশোধমূলক অভিযানের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিট সদর দপ্তরসহ কুয়েত, কাতার, জর্দান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্তত সাতটি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। দুবাই ও মানামাসহ বেশ কিছু শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে দুবাইয়ের আইকনিক ভবন বুর্জ খলিফা খালি করার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইন কর্তৃপক্ষ তাদের সদর দপ্তরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নেতানিয়াহুর পরবর্তী পদক্ষেপ ও বিশ্ব উদ্বেগ
এই চরম সংকটময় মুহূর্তে এখন বিশ্ববাসীর নজর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যদিও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে, তবুও বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এখনো কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও, এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির বদলা নিতে নেতানিয়াহু এক বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ছক কষছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ এই আঞ্চলিক সংঘাতকে একটি অনিয়ন্ত্রিত বিশ্বযুদ্ধে রূপ দিতে পারে।