রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন

ইউনাইটেড গ্রুপের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলমান থাকায় ইউনাইটেড গ্রুপের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৮ জানুয়ারী) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- ইউনাইটেড গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপপরিচালক আখতারুর ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, হাসান মাহমুদ রাজাসহ সংশ্লিষ্ট আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে অনিয়মের মাধ্যমে আইপিপি রেটে গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অনুসন্ধানকালে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন তথ্য পাওয়ায় দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে দুদক আদালতকে জানায়।

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে শুরু করে রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে ইউনাইটেড গ্রুপ। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী হিসেবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ২১ জুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা চাওয়া হয় ইউনাইটেড হাসপাতালের কাছে। তবে সে সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি সেই সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ইউনাইটেড গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ রাজা ও মঈন উদ্দিন হাসান রশিদের সিদ্ধান্তেই ওই সহায়তা নাকচ করা হয়।

এ ছাড়া ছাত্র–জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে তোলা হচ্ছে। ইউনাইটেড গ্রুপের কয়েকজন কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগের কথাও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এত দিন দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে পরিচিত বেক্সিমকোসহ একাধিক শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার, সম্পদ জব্দসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ইউনাইটেড গ্রুপের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র বলছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শহীদ মইনুল সড়কের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় সাবেক সেনাপ্রধান আব্দুল মুবীনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই আব্দুল মুবীন বর্তমানে ইউনাইটেড গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপ ও তাদের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেন আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে তিনি প্রভাব খাটিয়ে থাকেন। এ উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে একই দিনে পৃথক আবেদনে জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের করা মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com