বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন

গৌরব ও ঐতিহ্যের ১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ॥
শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজন, কনসার্টসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’।

বুধবার (০১ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল, হোস্টেল ও প্রশাসনিক ভবন থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পৃথক পৃথক আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে ‘স্মৃতি চিরন্তন’ চত্বরে এসে জড়ো হন।

এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। টিএসসি মাঠে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলগুলোর পতাকা উত্তোলন এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী পর্বে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং পরিবেশন করেন। উৎসবের এই আমেজে ভিন্নমাত্রা যোগ করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

মূল আলোচনা সভা
উদ্বোধনের পর টিএসসি মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মূল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন:
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের বেশি সময়ের ইতিহাস কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক চেতনা, মুক্তবুদ্ধি ও সামাজিক পরিবর্তনের ইতিহাস। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও নারীশিক্ষার বিস্তার এবং একটি প্রগতিশীল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অসামান্য। তবে বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণার পরিধি বাড়ানো, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা জোরদার করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সুসংহত করা প্রয়োজন। মানবিক মূল্যবোধ ও জ্ঞানচর্চার সঠিক সমন্বয় বজায় রাখতে পারলে ভবিষ্যতেও এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে পথ দেখাবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ ধরে রেখে ভবিষ্যতেও জাতীয় যেকোনো প্রয়োজনে এই বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিয়ে যাবে।

বিশিষ্টজনদের বক্তব্য ও উপস্থিতি
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন:

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাবিদ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

দিনভর নানা আয়োজন
দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলবেলা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় মনজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইক্লিং ক্লাবের উদ্যোগে একটি দৃষ্টিনন্দন সাইকেল র‌্যালি ও স্টান্ট শো অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন দ্বিতীয় দিনেও গড়াবে। বৃহস্পতিবার সকালে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে ‘১০৫ বছরে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ: অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com