মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
পঞ্চগড় প্রতিনিধি:: বরফে ঢাকা হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা নীল আকাশে উকি দিচ্ছে। আকাশে হেলান দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা ঘুমায়, শরতের সাদা কাশফুলে ঝরে শিশিরের মুক্ত। ঋতুবদলের পালায় শরতের বিদায় আর হেমন্তের আগমনী বার্তার মধ্যে নীল আকাশে দেখা মিলেছে বরফে ঢাকা হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। এর অপরূপ দৃশ্যে নতুন সৌন্দর্যে সেজেছে উত্তরের সীমান্ত ঘেঁষা জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। প্রকৃতির এমন স্নিগ্ধ রূপে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর তেঁতুলিয়ার সৌন্দর্য যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জীবন্ত ছবি। একদিকে দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ ও সারি সারি চা-বাগান, অন্যদিকে মহানন্দা নদীর স্বচ্ছ জলধারা আর নদী তীরের বালুচর। শরৎকালে মাঠে মাঠে সাদা কাশফুলের দোলা এবং ভোরের ঘাসে জমে থাকা শিশির এ সৌন্দর্যে যোগ করে হয়ে উঠেছে এক ভিন্ন মাত্রা।
এ সময় আকাশ পরিষ্কার থাকলে তেঁতুলিয়া থেকে দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় অপরূপ রূপে। সূর্যের আলোয় বরফ ঢাকা চূড়ায় কখনো সোনালি, কখনো রুপালি আভা ছড়িয়ে পড়ে। মেঘমুক্ত আকাশে পর্বতশৃঙ্গটির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসুরা ভিড় করেন উপজেলার ঐতিহাসিক ডাকবাংলোর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে। তবে আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতার ওপর নির্ভর করে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ।
তেঁতুলিয়ার সৌন্দর্য শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনেই সীমাবদ্ধ নয়। চা-বাগানের সবুজ গালিচা, নদীর কলকল ধ্বনি, গ্রামীণ পথের দুপাশের গাছপালা আর ঋতুভেদে প্রকৃতির রংবদল এ জনপদকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। বর্ষায় নদীর প্রবাহ, শরতে কাশফুল আর হেমন্তে সোনালি ফসলের মাঠ প্রতিটি ঋতুতেই তেঁতুলিয়া মেলে ধরে নতুন রূপ। শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের পথে প্রকৃতির এই রূপবদল তেঁতুলিয়ার পর্যটন সম্ভাবনাকেও উজ্জ্বল করে তুলছে। পরিকল্পিত পর্যটনসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ করা গেলে তেঁতুলিয়া হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র।
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে রাজধানী ঢাকা থেকে কোরবান আলী ও নারায়নগঞ্জ থেকে আসা মাজলান পাপ্পু ও মিয়ান্তা মনি কলেজে ভর্তি হয়ে পুজোর ছুটিটা কাটাতে দুই ভাই বোন মিলে নানা নানীর বাসায় বেড়াতে এসেছি। সেই সময়ের মধ্যে চলে আসলাম তেঁতুলিয়ায় পাহাড় ও চা বাগান দেখতে। শুনেছি, আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় অনেক পর্যটক কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসেও দেখতে পাননি। আমরা দেখতে পেয়েছি। কী যে আনন্দ লাগছে, তা বলে বোঝাতে পারব না।
এ প্রসঙ্গে তেঁতুলিয়া ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) লোকেশ চন্দ্র দাস বলেন, দর্শনার্থীদের ভ্রমণ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক সামিউজ্জামান বলেন, চলতি শীত মৌসুমে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। বর্তমানে দিনের বেলায় গরম অনুভূত হলেও রাতে বেশ শীত অনুভব হচ্ছে।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন বলেন, আজ এ মৌসুমে সবচেয়ে স্বচ্ছভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বক্ষণিক ভাবে তৎপর রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আশা দর্শনাথীদের যেন কোন রকম অসুবিধা না হয়।