মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
বাতাসের তীব্রতা ও পানি সংকট কাটিয়ে অবশেষে নিয়ন্ত্রণে কালশীর বস্তির আগুন ট্রাম্পের চাপেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনড় সৌদি: ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্ত স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত মক্কা-মিনা: হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ, কাল আরাফাত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশা: বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন, চাঙ্গা এশিয়ার শেয়ারবাজার গ্রীন সিটি, ক্লিন সিটি ও মাদকমুক্ত রাজশাহী গড়তে হবে প্রশাসক মাহফুজুর রহমান হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে: তারেক রহমান আদিতমারীতে ৫০ বছর বয়সী নারীকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

হরতাল-অবরোধে মাছের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কুয়াকাটার জেলেরা

মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:: কুয়াকাটা বঙ্গোপসাগরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মা ইলিশ রক্ষায় উপকূলের সাগর ও নদীতে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞায় গত ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর ২২ দিন পর্যন্ত জেলেরা সমুদ্রে মাছ শিকার থেকে নিজেদের বিরত রেখেছিলেন। অনেক আশা-ভরসা নিয়েই সমুদ্রে আবার যাত্রা করেছিল জেলেরা। যেমনটা ভাবছিল সেটা কিছুটা হলেও সফল হয়েছিল। আজ সে আশায় ভাটা লাগল রাজনৈতিক অস্থিরতায়। মাছ ধরা পড়লেও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপকূলীয় জেলেরা। জেলেদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। সামনের দিন গুলো কীভাবে কাটবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

সূত্র মতে, গত মাসের ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল ও অবরোধের কারণে ঠিক মতো মাছ চালান করতে না পারার কারণে তারা অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কোনো ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। পাইলেও বেশি টাকা ভাড়া দিয়ে মাছ পাঠাতে হয়। এ অবস্থায় মোটেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না এখানকার জেলেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিনাঞ্চলের মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুর ও কুয়াকাটার আড়তগুলোর সামনে স্তুপ থাকা ইলিশ মাছ। সাগর পাড়ে অনেক জেলে বসে আছেন। কেউ মাছ ধরতে জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন। আবার কেউ জাল ফেলে তেমন মাছ না পেয়ে নদীর পাড়ে চুপচাপ বসে আছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জাল ভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে জেলের মুখ হয়ে আছে মলিন। কারণ নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাদের খরচের টাকাই উঠছে না। ইলিশের দেখা না মেললেও পোয়া, কোরাল, লাক্কাসহ নানা জাতের সামুদ্রিক মাছ দেখা যায়। যে মাছ গুলো অবরোধের আগে বিক্রি হতো ৩০০ টাকায় সে মাছ বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়।

জেলে সোহেল বলেন, অবরোধ আর হরতালে মাছ চালান না করতে পারায় আমরা খুব লসে আছি। যে মাছ পাই তা দিয়ে কোনো মতে বেঁচে আছি।

রাসেল ফিসের স্বত্বাধিকারী মো. রাসেল বলেন, এখন সামুদ্রিক মাছে সয়লাব বাজার। দাম একেবারে কম। অবরোধ আর হরতালে শেষ আমরা।

নাসির উদ্দিন নামের এক আড়তদার জানান, কুয়াকাটার বিভিন্ন আরতগুলোতে ইলিশের তেমন দেখা মিলছে না বড় সাইজের পাঙ্গাশ কোরাল, লাক্কা, পোয়া পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিনই আড়ত গুলোতে সামুদ্রিক ১০-১৫ প্রজাতির মাছে সয়লাব থাকে। তুলনা মূলক দামও অনেকটা কম যাচ্ছে। গাড়ি ছাড়লে আমরা অনেকটা সঠিক দাম পেতাম।

এ বিষয় কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, মাছের দাম কিছুটা কম। এখানে দুটি মৎস্য বন্দর সেহেতু মাছে সয়লাব থাকবে বাজার এটাই স্বাভাবিক। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতায় দামে ভাটা অনেকটা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com