শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, কাউখালী (পিরোজপুর) ॥
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষার প্রধান দুটি স্তম্ভ- কাউখালী সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং কাউখালী সরকারি এস বি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এখন শিক্ষক সংকটে বিপর্যস্ত। বছরের পর বছর পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে। বিশেষ করে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
কাউখালী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়: ১৭ পদের ১১টিই শূন্য
বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম বর্তমানে ভেঙে পড়ার উপক্রম। ১৭ জন শিক্ষকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। প্রধান শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ১১টি পদই শূন্য। বর্তমানে ৩১৫ জন ছাত্রের এই বিদ্যাপীঠে ইংরেজি, গণিত ও বাংলার মতো বিষয়ের স্থায়ী শিক্ষক নেই। এমনকি অফিস সহকারীসহ চতুর্থ শ্রেণির ৪টি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন:
“শিক্ষার্থীরা তাদের মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজের পাহাড় সামলে আমি নিজেই দিনে ৬টি ক্লাস নিচ্ছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে।”
কাউখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: একই চিত্র
বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন। এখানে ১৭টি পদের মধ্যে শিক্ষক আছেন মাত্র ৭ জন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ১০টি পদই শূন্য। বিশেষ করে জীববিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার মতো বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। চারজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদও খালি পড়ে আছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আখতার হোসেন হাওলাদার জানান, বারংবার আবেদনের পরও প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া যাচ্ছে না।
শিক্ষা ব্যয় বাড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে মান
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠ না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী চড়া মূল্যে প্রাইভেট ও কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান দুটি সরকারি হওয়ার পর শিক্ষার মান বাড়ার আশা থাকলেও শিক্ষক সংকটে তার উল্টোটা ঘটছে। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না দিলে এই অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন:
“আমি ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর স্যারকে বিষয়টি অবহিত করেছি। আশা করছি দ্রুতই শিক্ষক সংকটের সমাধান হবে।