শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে রাফি জিহাদ (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পেটানোর ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানসহ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন তার অভিভাবক।
রোববার (৩১ মার্চ) দুপুরে এজাহারটি দুইদিন তদন্ত শেষে মামলা আকারে রেকর্ড করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা।
এর আগে, বুধবার (২৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করে তার সহপাঠীরা। এর একদিন পর শুক্রবার (২৯ মার্চ) রাতে আহত শিক্ষার্থী রাফি জিহাদের মা ফেন্সী বেগম দুই শিক্ষককে আসামী করে আদতমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অতপর দুইদিন তদন্ত শেষে রোববার এজাহারটি মামলা আকারে রেকর্ড হয়। রাফি জিহাদ উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মহিষাশ্বহর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য একরামুল হক জাদুর ছেলে এবং স্থানীয় মহিষাশ্বহর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
থানায় দায়ের করা এজাহার সুত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক নূর মোহাম্মদের ভাগিনা অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আজিজুল ইসলাম বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন বাকবিতন্ডায় জড়ায় একই ক্লাসের শিক্ষার্থী রাফি জিহাদের সাথে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার (২৭ মার্চ) বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠান প্রধান আতাউর রহমান আজিজুলের অভিভাবককে নিয়ে বিদ্যালয়ে একতরফা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে জিহাদকে ডেকে জোড়া বেত দিয়ে বেদম পেটান আতাউর রহমান। বেত্রাঘাতের কারনে শিক্ষার্থী রাফি জিহাদ ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর শিক্ষকরা নিজেদের দোষ ঢাকতে সাদা কাগজে রাফি জিহাদের সই নেন সহকারী শিক্ষক নুর মোহাম্মদ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অসুস্থ রাফি জিহাদকে উদ্ধার করে তার সহপাঠীরা আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় শুক্রবার(২৯ মার্চ) রাতে আহত শিক্ষার্থী রাফি জিহাদের মা ফেন্সী বেগম বাদি হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান ও সহকারী শিক্ষক নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে আহত শিক্ষার্থী রাফির মা ফেন্সী বেগম জানান, শিক্ষকদের বেদম বেত্রাঘাতে তার সন্তান হাসপাতালে চিকিৎসাধিন থাকলেও একদিনের জন্যেও শিক্ষকরা তার খোঁজ খবর নিতে হাসপাতালে যাননি। উল্টো বিভিন্ন দফতরে অনৈতিক যোগাযোগ করে তার সন্তানকে জোরপুর্বক বদলীর(টিসি) হুমকী দিচ্ছেন ওই দুই শিক্ষক।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাসুদ রানা জানান, এজাহারটি পাওয়ার পর পরই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান তিনি।