শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য চেয়ারম্যানের চাহিদামত ১ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার পর ২ বছরেও ভাতা না পাওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়াটাই অপরাধ প্রতিবন্ধী আশরাফুলের। আর এই অপরাধেই চেয়ারম্যান তার নিজ বাড়িতেই চড়াও হলেন প্রতিবন্ধী আশরাফুলের উপর। লাঠি দিয়ে বেধম মারধর করে উল্টো বিষয়টি গ্রামবাসিকে না জানানোর হুমকি দিয়ে হাতে ৩০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন চেয়ারম্যান। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই প্রতিবন্ধী।
শুক্রবার সকালে (৫ অক্টোবর) লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের বাড়িতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে। এরপরে হাত ও পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে মারধরের শিকার প্রতিবন্ধী আশরাফুল শুক্রবার রাতে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে শনিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
চেয়ারম্যানের নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী আশরাফুল ওই ইউনিয়নের তালুক হারাটি এলাকার রমজান আলীর ছেলে।
এ বিষয়ে খোঁজ নিতে সরেজমিন সদর রবিবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ‘তিন তলায় সার্জারী ওর্য়াডে ৪৬ নম্বর বিছানায় শুয়ে আছে প্রতিবন্ধী আশরাফুল।’ তার কাছে জানতে চাওয়া হলে অস্পষ্ট উচ্চারনে আশরাফুল জানায়, ‘২ বছর আগে তার মায়ের কাছে প্রতিবন্ধী ভাতা করে দেওয়ার জন্য ছবি, আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ১ হাজার টাকা নেয় চেয়ারম্যান রফিক।’ কিন্তু কার্ড না হওয়ায় শুক্রবার সকালে তার মাকে সাথে নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান দেখা করতে। সেখানে চেয়ারম্যানের দেখা হলে সেই ১ হাজার টাকা ফেরত চায় আশরাফুল ও তার মা। এসময় আশরাফুল বলে, ‘টাকা না দিলে চান্দের বাজারে মোটরসাইকেল আটকানো হবে।’ এ কথা শুনেই লাঠি ও দরি কই বলে চিল্লাতে থাকে চেয়ারম্যান। একপর্যায়ে পাশ থেকে একটি লাঠি তুলে আশরাফুলকে বেধম পেটায় চেয়ারম্যান। এসময় আশরাফুলের মা চেয়ারম্যানের কাছে অনুনয় করে ছাড়িয়ে নেন পাগল ছেলে আশরাফুলকে। তখন চেয়ারম্যানের বউ বাড়ির ভেতর থেকে ৩০ টাকা এনে হাতে ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাটি গ্রামে কাউকে না জানাতে বলে। পরে শরীরে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করলে গ্রামবাসির সহযোগিতায় ওই রাতেই সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় আশরাফুল।
এ বিষয়ে হাসপাতালে থাকা আশরাফুলের মা আকলিমা বেগম বলেন, ‘একজন চেয়ারম্যান হয়ে একটা পাগল মানুষকে এভাবে মারবে তা তিনি ভাবতেই পারেন নি।’ তিনি এই ঘটনার ন্যায় বিচার দাবি করেন। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে বক্তব্য চাইলে হারাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘ওই পাগলা তাকে মারতে চেষ্টা করেছিল তাই তিনি দুই চারটি চর থাপ্পর মেরেছিলেন।’ আর তুচ্ছ ঘটনাটিকে বড় করতেই তার বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করে আশরাফুলকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। তিনি ওই প্রতিবন্ধীর নিকট ভাতা করে দেওয়ার নাম করে কোন টাকা পয়সা নেননি বলেও দাবি করেন।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে আশরাফুলের মা আকলিমা বেগম। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলম বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করেই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’ এবিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মৌখিক ভাবে বিষয়টি শুনেছেন। অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’