শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ মানুষের সুন্দর স্বভাব গঠনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত লালমনিরহাটের একটি মহিলা মাদ্রাসা ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে মাদ্রাসার দড়জা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে মাদ্রাসার পরিচালককে জড়িয়ে মিথ্যে অভিযোগে আক্রমন চালায় এবং পরিচালক ও সহকারী পরিচালকের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে নগদ ১০ লক্ষ টাকা দাবী করে। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার ছাত্রী-শিক্ষকসহ স্থানীয় জনগনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২০ অক্টোবর) সকালে আদিতমারী উপজেলার খাতাপাড়া এলাকার ফাতেমাতুজ জোহরা মহিলা মাদ্রাসায় সরেজমিনে গেলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।
১৯৯৬ সালে ফাতেমাতুজ জোহরা নামে মহিলা মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ১৯৯৭ সালে একই পরিচালক ওই এলাকার বালকদের সুশিক্ষার জন্য রওজাতুস সুন্নাহ নামে আরো একটি মাদ্রসা প্রতিষ্ঠা করেন। বালকদের জন্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর মতিয়ার নামে স্থানীয় এক যুবক ওই বালক মাদ্রাসার সভাপতি হতে চায়। কিন্তু তার বয়স কম এবং স্বভাবগত কিছু সমস্যা থাকার কারনে সে সভাপতি হতে পারেনি। এ কারনে মতিয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসার পরিচালকের উপর ৩০ উর্ধ সন্তান সম্ভাবা বিতর্কিত চরিত্রের এক মহিলাকে ব্যবহার করে নোংরা গল্প সাজায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মতিয়ার ও তার আরো কয়েকজন বখাটে যুবক নিয়ে অতর্কিত হামলা করে দড়জা ভেঙ্গে মহিলা মাদ্রাসার ভিতরে প্রবেশ করে পরিচালকের নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করে। এ সময় তারা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ঢুকে পরিচালক ও সহকারী পরিচালকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যবক্তিবর্গ ও মুরুব্বিগনের হস্তক্ষেপে ওই আক্রমনকারী দলটি মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দিয়ে চলে যায়।
ফাতেমাতুজ জোহরা মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ ফজলুল করীম সাহারিয়া সাংবাদিকদের জানান, অত্র এলাকার স্বনামধন্য এ মাদ্রাসা দুটি ধ্বংস করার চক্রান্ত মাত্র। তিনি বলেন, একমাত্র মতিয়ারকে সভাপতি না বানানোর কারনেই গত বছর শুরু হওয়া ৪০ জন ছাত্রের ওই মাদ্রাসাটি এখনো খোলা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারনে স্বনামধন্য ৩শ ছাত্রীর এ মহিলা মাদ্রাসাি তে একটি নোংরা অপবাদ দেয়ার চক্রান্ত করছে। তিনি এ নোংরা চক্রান্ত ও য়ড়যন্ত্রের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
আক্রান্ত ওই মহিলা মাদ্রসাটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম এই নোংরা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চক্রান্তকারীদের বিচার দাবী ও বন্ধ মাদ্রসাসহ মহিলা মাদ্রাসাটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, গুনীজনও মুরুব্বীগনের সহায়তায় আক্রান্ত মহিলা মাদ্রসাটির পাঠদান কার্যক্রম চলছে।
বর্তমানে মাদ্রাসাটির ছাত্রী-শিক্ষক ও পরিচালকসহ স্থানীয় জনগনের মধ্যে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহনে আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাপ্টিবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল আলম উভয় পক্ষকে নিয়ে মিমাংসায় বসবেন বলে চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান।