শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
আবুল হাসেম ফকির :
ঢাকার দোহার উপজেলায় লিচুর স্বাদের জন্য পরিচিত পিচফল বা কাঠলিচুর চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। রসালো, কোমল ও মিষ্টি স্বাদের এ ফল স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রাজধানীতেও ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে। তবে পিচফল পাকতে না পাকতেই বাদুড়ের আক্রমণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা।
পিচফল দেখতে ও স্বাদে লিচুর সঙ্গে কিছুটা মিল থাকায় অনেকেই একে কাঠলিচু নামে চেনেন। যদিও এটি লিচুর একই পরিবারের ফল নয়, তবুও এর মিষ্টি ও রসালো শাঁস লিচুপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয়।
চাষিদের ভাষ্য, সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় বাদুড়ের উপদ্রব। দিনভর গাছে ঝুলে থাকা পাকা ফলের বড় একটি অংশ রাতের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। উপায়ান্তর না পেয়ে এখন অনেক কৃষক তাদের পিচফল গাছ মশারির জাল দিয়ে ঢেকে ফল রক্ষার চেষ্টা করছেন।
উপজেলার নয়াবাড়ি, কুসুমহাটি, মাহমুদপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, অনেক বাগানে বাঁশের খুঁটি দিয়ে গাছ ঘিরে তার ওপর নীল-সাদা মশারি টাঙানো হয়েছে। মশারির ভেতরে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকাপিচ ফল। বাদুড়ের হাত থেকে ফল বাঁচাতে এ পদ্ধতিকেই এখন সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করছেন চাষিরা।

হরিচন্ডি গ্রামের পিচফল চাষি জালাল ফকির জানান, তাঁর ২০ থেকে ২৫টি পিচ গাছ রয়েছে। তিনি বলেন, “আগে বাদুড় তাড়াতে রাত জেগে ঢোল বাজাতাম, হারিকেন জ্বালিয়ে রাখতাম। এখন আর তাতে কাজ হয় না। ২০-২৫টি বাদুড়ের ঝাঁক এসে অল্প সময়েই একটি গাছের অধিকাংশ ফল নষ্ট করে দেয়।”
কৃষকদের ধারণা, আশপাশে বড় বড় গাছপালা কেটে ফেলা এবং ইটভাটার সংখ্যা বাড়ায় বাদুড়ের প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে গেছে। ফলে খাবারের সন্ধানে তারা এখন ফলের বাগানেই বেশি হানা দিচ্ছে। নরম, মিষ্টি ও সুগন্ধি হওয়ায় পিচ ফল বাদুড়ের অন্যতম প্রিয় খাদ্যে পরিণত হয়েছে। অনেক চাষির দাবি, আম বা লিচুর তুলনায় পিচ ফল গাছেই বাদুড়ের আক্রমণ বেশি হয়।
স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, বাদুড়ের আক্রমণে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফল নষ্ট হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তাই ক্ষতি কমাতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও কার্যকর সহায়তার দাবি জানিয়েছেন পিচফল চাষিরা।